
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি খাস জমি নিয়ে অর্থ লেনদেন ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে।
সরকারি মালিকানাধীন জমির একটি অংশ বিঘাপ্রতি প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা দরে বিক্রয় করার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসের পর থেকে আলোচনা শুরু হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, খলিসাবনিয়া মৌজার ৪৪৫ খতিয়ানের ১০০৪ থেকে ১৭৮৬ দাগের ২৬.৪৪ একর সরকারি এনিমি জমি ৫ই আগষ্ট পরে দলীয় প্রভাব দেখিয়ে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পাশ্বেমারি গ্রামের সালাউদ্দিন লিটন দখল করে নেয়। সম্প্রতি দখল করা জমি গাবুরা পাশ্বৈমারি গ্রামের টুকু মোড়ল, মোঃ বায়জিদ মালি, আবুল হোসেন, লক্ষীখালি গ্রামের শফি ঢালি,আমজেদ শেখ, ১০ নং সোরা গ্রামের গফুর গাজী,মাকছু মোড়ল কাছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা বিঘাতে মৌখিক ভাবে বিক্রি করে। জমি ক্রয়কৃত মালিকরা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে।
স্থানীয় গাবুরা গাগড়ামারি গ্রামের সাত্তার খাঁ জানান, ৫ই আগস্টের পর সরকারি এনিমি ভুক্ত ২৬ একর জায়গা দখল নেয় সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহবায়ক আমাদের এলাকায় বাড়ি সালাউদ্দিন লিটন। দখল নেওয়ার পর থেকে লিটনের সন্ত্রাসী গ্রুপ এই জায়গাটা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই দুই থেকে তিন লাখ টাকা বিঘা প্রতি বিক্রি করছে নাম জানাতে অনিচ্ছুক আমার এক আত্মীয় তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে ওই জায়গা কিনেছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের একটি ডাবল হত্য মামলা রয়েছে।
গাবুরা লক্ষীখালি গ্রামের ইয়াছিন সরদার বলেন. সরকারি খাস জায়গা দখল করে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা করে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রয় করছে কৃষক দলের নেতা সালাউদ্দিন লিটন। ওখানে আমার ইজারা নেওয়া ৩ বিঘা জমি ছিল আইলার পরে চলে আসলে সেই জমি গফুরের কাছে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে বিক্র করে দিয়েছে।
কৃষক দল নেতা সালাউদ্দিন লিটন বলেন. ৪৪৫ খতিয়ানে মালিকানা জমি আছে ৮০ বিঘার মত আর খাস জমি আছে ৪০ কি ৩০ বিঘার মত। খাস জমি বিক্রির বিষয় জানান খাস জমি বিক্রিয় করলে লিখে দিবে কি করে। খাস জমি বিক্রির বিষয় আমার জানা নেই। আমি জানি মালিকানা জমি বিক্রি হচ্ছে। ওখানে যারা ঘর বাড়ি করতেছে তারা সব মালিকানা জায়গায় করতেছে।
গাবুরা শেখ পাড়া অহিদুজ্জামান জানান, ভুয়া আইনজীবী সেজে এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোঃ সালাউদ্দিন লিটন তার পিতার অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্য দিনের আজিজুল মোড়ল, খলিল মোড়ল এবং মোঃ নুরুন্নবী,আসাদুল্লাহিল গালিব কে নৃশংস ভাবে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ আশাশুনি উপজেলায় র্যাবের হাতে ধরা পড়ে।
দখল করা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা কোন কিছু বলতে পারব না টাকা দিয়ে কিনেছি এটুকু বলতে পারি।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক চেয়ারম্যান লেলিন জায়গাটা দখল করে রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে সাতক্ষীরা জেলার কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটন জায়গাটা দখল করে রেখেছে। এবং দখল করা জায়গা দুই থেকে তিন লাখ টাকা বিঘা প্রতি স্থানীয় লোকজনের কাছে বিক্রির করে দখল করে বাড়ি ঘর বানিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টা একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেইনি।
গাবুরা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, বিষয়টা শুনেছি সরা জমিনে যেয়ে যদি সরকারি জায়গা দখল করে বিক্রয় করে তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
শ্যামনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ বলেন, বিষয়টা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যদি সরকারি জমি হয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার