
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামীকে হয়রানি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মিসেস মমতাজ কবীর। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মমতাজ কবীরের অভিযোগ, তাঁর স্বামী কাজী হুমায়ুন কবীর সন্ধি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের ভরণপোষণ ও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৮৬ সাল থেকে তাঁর শ্বশুর তেমন কাজকর্ম না করায় পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন হুমায়ুন কবীর। ১৯৯০ সালে শ্বশুর অসুস্থ হলে তাঁর হৃদরোগের চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভারও তিনি বহন করেন। ১৯৯২ সালে শ্বশুরের মৃত্যুর পর সেজো ভাই বাবন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করেন হুমায়ুন কবীর।
অভিযোগে বলা হয়, পরিবারের মোট নয় ভাই-বোনের মধ্যে শ্বশুরের মৃত্যুর সময় অধিকাংশই ছিলেন শিশু। ১৯৯৪ সাল থেকে প্রায় ১২ বছর ধরে হুমায়ুন কবীর পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। পরে পারিবারিক কারণে সবাই আলাদা হয়ে যান। তাঁর সেজো ভাই বাবন মৃত্যুর আগে নিজের জমির অংশ হুমায়ুন কবীরের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে লিখিতভাবে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন মমতাজ কবীর। এ বিষয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্য সাক্ষী রয়েছেন বলে তিনি জানান।
মমতাজ কবীর বলেন, তাঁর স্বামী প্রায় ৪৫ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রথমে দোকান এবং পরে চেম্বার স্থাপন করে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ছোট দেবর এমরান কবীর রোকন, সেজো ননদ মুক্তা ও তাঁর স্বামী হাবিব খান প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর শাশুড়ির কাছ থেকে অন্যান্য জমির সঙ্গে ওই চেম্বারের জমিটিও নিজেদের নামে লিখে নেন।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে খাজনা দিতে গিয়ে তাঁর স্বামী ভূমি অফিসে জানতে পারেন, চেম্বারের জমিটির মালিকানা তাঁর নামে নেই। বর্তমানে জমিটি এমরান কবীর রোকনের নামে রয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। মমতাজ কবীরের দাবি, তাঁর শাশুড়ির বয়স প্রায় ৮৪ বছর এবং তিনি স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় ওই জমি হস্তান্তর করেননি।
বিষয়টি জানার পর স্বামী সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তাঁর ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেন মমতাজ কবীর। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি সাক্ষ্য দেওয়ার পর বর্তমানে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মমতাজ কবীর আরও বলেন, তাঁর স্বামী মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিসে আক্রান্ত। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রায় ৪৫ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা তাঁকে কম কথা বলা ও সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বাসায় ফেরার পর রোকন ও হাবিব খান জোরপূর্বক বাসায় এসে তাঁর স্বামীকে উত্তেজিত করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
এ ছাড়া রোকন ও হাবিব খান তাঁদের সঙ্গে থাকা লোকজন নিয়ে বাড়ির আশপাশে চলাফেরা করায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান মমতাজ কবীর।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর অসুস্থ স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার