
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। একই সঙ্গে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরের সিটি চার্চ হলরুমে ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ প্রসব সচেতনতা ও সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা ১২০ জন মাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এম.এম. আঞ্জুমান আরা বেগম। তিনি বলেন, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। গর্ভকালীন সময়ে অন্তত চারবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমসহ আমিষজাতীয় খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে শুধু মাকে নয়, পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নরমাল ডেলিভারি নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে মায়েদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নরমাল ডেলিভারির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বনগ্রাম এলাকার মা সুমাইয়া আক্তার মিম। তিনি জানান, গত ১৬ মে তাঁর সন্তান জন্ম নেয়। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নিলু বেগম। তিনি জানান, শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে Timed & Targeted Counseling (TTC) মডেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা ১২০ জন মাকে উৎসাহিত করতে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ সময় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা ‘ফাইভ জিরো প্লাস’ ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো শিশু যেন অভুক্ত বা অপুষ্টিতে না থাকে, বিদ্যালয় থেকে ঝরে না পড়ে এবং শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার। এ সময় সংস্থাটির জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অর্জুন রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার