
বিশেষ প্রতিনিধি:
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বাদী ফরিদপুর ভাঙ্গার ছোটখারদিয়ার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর আলম। ডিএমপি পল্টন মডেল থানার মামলা নং-০৭, তারিখ ৮ জুলাই ২০২৬-এর তদন্ত শেষে এ আবেদন করা হয়। বাদী শহিদুল ইসলাম দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম তাঁর অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটির বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিককে হয়রানি করতে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পল্টন আদালতে একটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি আমলে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে মামলাবাজ মোঃ শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁকে সাংবাদিক বানানোর কথা বলে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া পত্রিকায় পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলার সাক্ষী দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজার কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন এ দুজন। সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে।
তবে পুলিশের তদন্তকালে এসব অভিযোগের পক্ষে বাদী মোঃ শহিদুল ইসলাম কোন দালিলিক কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি বিদায় পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করতে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।
এমনকি মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার স্থান, সময় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার সময় বাদী নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মোঃ খায়রুল আলম রফিককে হয়রানি, ক্ষতিগ্রস্ত ও সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়।
দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে জেনেশুনে মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাদী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে চলতি মাসে শুনানি হতে পারে বলে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তালুকদারকে জানানো হয়েছে।
মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাদী শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক জানান, বাদী মোঃ শহিদুল ইসলাম একসময় তাঁর প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন কর্মচারী হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় । খায়রুল আলম রফিক আরও বলেন, এরপর থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে শহিদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে প্রায় শতাধিক ভুয়া অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের অধিকাংশই তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
তিনি বলেন, “শহিদুল ইসলামকে যেন আল্লাহতালা হেদায়েত করেন।”
দণ্ডবিধির ২১১ ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েম রেজা জানান, এ ধারায় মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞ আদালত মনে করলে তাকে দুই বছর থেকে ৭ বছরের সাজা দিতে পারে। এটি আদালতের এখতিয়ার।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার