
রুয়েট প্রতিনিধি:
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সীমানার ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এর পাশেই পুরকৌশল অনুষদের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলায় স্থাপনাটি অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রুয়েটের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়। তাদের দাবি, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আলাদা হলেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সীমানার মধ্যে এভাবে স্থাপনা নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে টয়লেটটির খুব কাছেই বর্তমানে পুরকৌশল অনুষদের ১০তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ফলে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের পরিবেশ, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক নান্দনিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রুয়েটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ফ্যাকাল্টি ভবনের পাশে এর অবস্থান শিক্ষার পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে স্থাপনাটি অপসারণ করে জমি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
শিক্ষার্থীরা শুধু টয়লেটটিই নয়, রুয়েটের সীমানা ঘেঁষে থাকা অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা ও ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এসব স্থাপনা একদিকে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন, “পাবলিক টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ভেঙে রুয়েটের জমি ব্যবহার করে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। পাশাপাশি সীমানা সংলগ্ন দোকান ও অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনাগুলোও সরিয়ে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে স্থাপনাটি অপসারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমি ও সীমানা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জনসাধারণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বাইরে উপযুক্ত স্থানে বিকল্প পাবলিক টয়লেট নির্মাণেরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের পাশাপাশি এর জমি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নান্দনিকতা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রুয়েটের সীমানার ভেতরে থাকা অননুমোদিত স্থাপনা ও সীমানা সংলগ্ন অন্যান্য অব্যবস্থাপনার বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার