
মোঃ গোলজার হোসেন হীরা, বিশেষ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে পৌর এলাকার ছয়আনীপাড়া মসজিদের কবরস্থান ভাঙা কে কেন্দ্র করে নিয়ে তর্ক ও বিতর্ক একপর্যায়ে হাতাহাতি এবং ঘটনা ও কবর ভাঙ্গার অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছয়আনীপাড়ার কবরস্থানের মালিক দাবিদার রিন্টু গং। আবু আল মঈন খান রিন্টু ছয়আনীপাড়া মহল্লার তার নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি বলেন, ছয়আনীপাড়া মসজিদ ও তৎসংলগ্ন কবরস্থানের মালিক তার বাবা ও চাচারা এবং তাদের নামেই রেকর্ড ও খাজনা-খারিজ করা। শাহ্ বদর উদ্দীন ইয়ামেনী (রহঃ)-এর মাজার শরিফ সংলগ্ন পুরো মসজিদ ও কবরস্থানের । তার মধ্যে অনেক আগেই রিন্টুর বংশধরেরা চার শতক মসজিদের নামে ওয়াকফ্ করে গেছেন। রিন্টুদের এবং অন্য শরিক সৈয়দ আশরাফ আলী আহমেদ টুকুদের । তার মধ্যে সৈয়দ আশরাফ আলী আহমেদ টুকুর মৃত কে.এম. সাইফুল ইসলাম হায়দারের কাছে বিক্রি করেন। সেই বিক্রির বিরুদ্ধে রিন্টুদের পক্ষ হতে আদালতে পিয়াশন মামলা করেছে তার চাচাত ভাই মৃত আজাদ খান যায়গার মালিক সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন এর বড় ভাই মৃত সৈয়দ মহিউদ্দিন এবং মৃত সৈয়দ আলাউদ্দিন এর ওয়ারিশ যারা মৃত কে এম সাইফুল ইসলাম এর কাছে ৪শক যায়গা বিক্রিয় করেছেন তার মধ্যে থেকে ২শতক জায়গার উপর মৃত আজাদ খান যার পরিচয় মৃত আলাউদ্দিন এর ফুপাতো ভাই মতিয়ার রহমান ওরফে (ডোলন) এর ছেলে।
বর্তমানে মামলাটি কোর্ট বিচারাধীন রয়েছে। এবং মৃত সাইফুল ইসলামের জায়গার সাথে তর মৃত দুলা ভাই সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন এবং মৃত হায়দার গং রা ভোগ দখলে রেখেছে।অন্যদিকে রিন্টু বলেন, বংশানুক্রমে তো নয় ভগ্নিপতি টুকুর দুই শতক এবং ভাই হায়দারের ক্রয় করা চার শতক জায়গাকে সামনে ধরে একই মহল্লার শুধু তাই নয়, এক বছর পূর্বে মৃত কায়সার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার থাকলেও কোন আয়-ব্যয় হিসাব দেন নি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রিন্টুর চাচা মাহফুজুর রহমান খান রন্টু বলেন, বংশানুক্রমে ওই কবরস্থানের জায়গার মালিক আমরা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কেউ মারা গেলে রাঙ্গারা কয়েক ভাই লাশ দাফনেও নানাভাবে হয়রানি করত।
অপরদিকে মসজিদের মোতওয়াল্লী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, গত ১৮-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখে তিনি পাশের কবরস্থানটির পরিষ্কার ও সংস্কার করার জন্য নিজে এবং সাথে লোক নিয়ে কাজ শুরু করলে রাঙ্গা গংরা বাঁধা দেয় এবং তাকে মোবাইল ফোনে নানারকম গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। এমতাবস্থায়, ওইদিন যোহর নামাজান্তে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ নিয়ে পুনরায় কথা তুললে সাইদুল ইসলাম রাঙ্গা প্রফেসর ড. রকিবুল ইসলাম খানকে গালিগালাজসহ তার উপর চড়াও হন এবং তাকে কিলঘুষি মারে পাশাপাশি রাঙ্গা রকিবুল খানকে কবর ভাঙ্গার অভিযোগে দায়ী করেন এবং পরবর্তীতে কবর ভাঙ্গার অভিযোগ তুলে একটি ইউটিউব চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করান। সংবাদ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় কবর ভাঙ্গার অভিযোগ অস্বীকার করে জনাব রকিবুল খান বলেন, তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি এসি ল্যান্ডের সাথে আলোচনা করেই ওই পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছেন। এদিকে. সংবাদ সম্মেলনে রিন্টু ফেসবুকে প্রচার হওয়া ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
এ ব্যাপারে সাইদুল ইসলাম রাঙ্গার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ সম্মেলনের সব বিবরণ ও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মসজিদ টি তো সরকারের এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভুমি) টাকা পয়সা যা কালেকশন হয়,সেটা জমা থাকে ভুমি অফিসের নায়েব কেশিয়ার এর নিকট ,মসজিদের কোন প্রয়োজনে টাকার দরকার হলে মসজিদের মৃত সেক্রেটারী কাউসার সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে বললে ওনি কেশিয়ার নায়েব কে দিয়ে সেই টাকটা খরচ করাতেন ,তাহলে কায়ছার কি ভাবে টাকা পয়সা নিতেন,
রাঙ্গা সাহেব আরো বলেন ,মিন্টু কি ভাবে মোতয়াল্লী হলেন মসজিদ তো সরকারি রিন্টুদের কথা অনুযায়ী মসজিদের কমিটি ছিল,সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাধারণ সম্পাদক মৃত কাওসার তাহলে কে মিন্টু কে মোতাউল্লির দায়িত্ব দিলো রিন্টু তার সঠিক কাগজ দেখাক।কারন মসজিদ টি খাস হওয়ার পুর্বে মসজিদের মালিক ছিল রাঙ্গা সাহেবের মৃত দুলাভাই সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন আহমেদএর বাবা মৃত নূরউদ্দিন। মিন্টু রা মসজিদের মালিকের ছেলে মৃত আশরাফ উদ্দিন আহমেদ এর ফুপাতো ভাই এর ছেলে হিসেবে রন্টুরা কবরস্তানের যায়গা পায় মাএ ,২৫ পয়েন্ট সেই যায়গায় রন্টু মিন্টু বাবা মার কবর সহ প্রায় রিন্টু দের আত্মীয় সজন রা ১২ জনের কবর দিয়েছে ,এবং কবরস্তান এর পশ্চিমে লোহার গ্রীল দিয়ে ঘেরা ,২৫ পয়েন্ট যায়গা শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পর কবরস্তান ,ভাঙা পরিস্কার করার ওরা কে ,সেখানে হস্তক্ষেপ করার ,ক্যনসারের রুগি হয়ে একজন কামেল মানুষের কবর ভেঙে ওর কি আখে রাত বলতে কিছু নেই, আল্লাহ ওর বিচার করবে,আল্লাহ ছাড় দেন ছেড়ে দেন না।রন্টুরাই ওই কবরস্থানের সামান্য অংশের মালিক। কবরস্তানে রিন্টুদের কোন যায়গা নেই কবরস্থানের ছয় শতক জায়গার মালিক আমার ভগ্নিপতি সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন আহমেদ টুকু এবং আমার ছোট ভাই মৃত সাইফুল ইসলাম হায়দার। সেই আলোকে এবং মহল্লাবাসী হিসেবে আমরা মসজিদ ও কবরস্থান দেখভাল করি। রকিবুল খানকে মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওইদিন যোহরের নামাজের পর মসজিদে আমাকে দেখে রিন্টুরাই আমাকে মারপিট ও কিলঘুষি শুরু করে। মুসুল্লিরা বাঁধা না দিলে আমাকে আরও মারপিট করত।
ঘটনার পর উভয়পক্ষই শাহজাদপুর থানায় জিডি ও পাল্টা জিডি করেছে এবং থানা থেকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন এসআই কে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার