
মোঃ শাহান আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের শক্তিপুরে অবস্থিত ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র উদ্বোধনের পর থেকেই নানা সংকটে ধুঁকছে। বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ফলে তীব্র গরমে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে গালা ইউনিয়ন, গারাদহ ইউনিয়ন ও কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও নবজাতকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ফ্রিজে সংরক্ষিত টিকা ও জরুরি ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবছা আলো ও গরমের মধ্যে নিজ নিজ কক্ষে বসে ছিলেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছা. খাদিজা পারভীন এবং ফার্মাসিস্ট মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় হাসপাতালে কোনো রোগীকে দেখা যায়নি।
তিনতলা ভবন ঘুরে দেখা যায়, এমআর রুম, আল্ট্রাসাউন্ড রুম, অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের ওয়ার্ডসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার প্রায় সব কক্ষই বন্ধ। ফলে কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনাও দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় মোমবাতির আলোয় প্রসূতি মায়ের ডেলিভারি করাতে হচ্ছে। ইনকিউবেটর, সাকশন মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছা. খাদিজা পারভীন ও ফার্মাসিস্ট মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত বুধবার পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তারা জানান, গত তিন বছর ধরে হাসপাতালের আবাসিক ভবনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতালের মিটার থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় নবজাতক শিশু ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসাসেবা দিতে চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, হাসপাতালটিতে পরিবার কল্যাণ মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ মোট সাতটি পদ থাকলেও বর্তমানে ছয়জন কর্মী দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি মেডিকেল অফিসার অবসরে যাওয়ার পর ওই পদটি এখনও শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত বুধবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া গালা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০১ টাকা, তালগাছি কমিউনিটি ক্লিনিকের ৩৮ হাজার ৩১১ টাকা এবং কায়েমপুর স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের ২৫ হাজার ৬৪ টাকা বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান তারেক বলেন, শক্তিপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। কোয়ার্টারের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এতদিন হাসপাতালের সংযোগ থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থানীয়ভাবে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বকেয়া বিল পরিশোধের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার