
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১৭ ও ২৫ ধারায় দায়ের করা মামলায় মো. আনিসুর রহমানকে হাইকোর্ট সরাসরি জামিন দেননি। তবে তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ারাধীন আদালতের বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৮ ধারায় দায়ের করা ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং-৪৯১০০/২০২৬-এর শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নং-১০, তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৬ এবং জিআর মামলা নং-৫১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আনিসুর রহমান ও তার সহযোগীরা বাদী মোঃ খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিসহ একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, আমি আরেকটি জিডি করেছি। “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সব ডকুমেন্ট আমি বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করব। আশা করি, আদালত ন্যায়বিচার করবেন।”
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামি মো. আনিসুর রহমান তার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। শুনানিতে তার পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন আদালত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যও শুনেছেন আদালত।
আদেশে আদালত মামলার তথ্য-উপাত্ত, এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগ এবং আবেদনপত্রে উল্লেখিত বক্তব্য বিবেচনা করেন। এরপর আবেদনকারীকে ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে মেট্রোপলিটন সেশনস জজ, ঢাকা-এর আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আত্মসমর্পণের পর আবেদনকারী জামিনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালত তা স্বাধীনভাবে এবং নিজস্ব মেরিটের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবেন।
এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা যখন ও যেভাবে প্রয়োজন মনে করবেন, তখন আবেদনকারীকে তার কাছে উপস্থিত হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের সারকথা: আনিসুর রহমানকে হাইকোর্ট সরাসরি জামিন দেননি। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার সুযোগ দিয়েছেন। ফলে তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে সেই আবেদন আইন ও মামলার মেরিট বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আদালত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন। হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে নিম্ন আদালতে জামিন নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
আদালতের আদেশের অনুলিপি তথ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেট্রোপলিটন সেশনস জজ, ঢাকা এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকার আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশটি ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে টাইপ করা হয়। তবে বাদী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার কাগজপত্র পৌঁছায়নি এবং আসামি মো. আনিসুর রহমানও সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার সুযোগ আসামির রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার