নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ঢালুর মোড় জামে মসজিদসংলগ্ন ও হাইটেক পার্কের পাশে প্রধান সড়কের ধারে প্রায় ২০ কাঠা আয়তনের একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত থেকে পুকুরটিতে মাটি ফেলে ভরাটের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে একটি বড় জলাধার ভরাটের অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে মাটি ফেলে পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। অথচ নগরীর পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনে পুকুর ভরাটে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা
পুকুর ভরাটের বিষয়ে প্রচলিত আইনেও সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জলাধার ভরাট করা যাবে না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া একই আইনের ২৯ ধারায় অননুমোদিত জলাধার ভরাটের কাজ স্থগিত বা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিক কিংবা ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ প্রযোজ্য। অর্থাৎ, কোনো পুকুর বা জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের বিষয়টি ইচ্ছামতো করার সুযোগ নেই; এ ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত বিধান ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
অনুমোদন আছে কি না, জানতে চায় সচেতন মহল
এ অবস্থায় ঢালুর মোড়ের পুকুরটি ভরাটের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, পুকুরটি সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনা বা সরকারি নথিতে কী হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে এবং ভরাটের কার্যক্রম কোন কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অনুমোদন ছাড়া পুকুর ভরাট করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? আর অনুমোদন থাকলে সেটি কোন আইনি বিধানের আওতায় দেওয়া হয়েছে?
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরীর পুকুর ও জলাধার শুধু বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেই ভূমিকা রাখে না, বরং ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে পানির উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অপরিকল্পিতভাবে এসব জলাধার ভরাট হলে নগরীর পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে পুকুরটির প্রকৃত অবস্থা, মালিকানা, সরকারি নথিতে শ্রেণিবিন্যাস এবং ভরাটের অনুমোদন যাচাই করতে হবে। অনুমোদনহীনভাবে ভরাটের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৪ | সাইট তৈরি করেছে ইকেয়ার