আজ- রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জন্য অনুদান আসছে লাখে লাখ

by Prokash Kal
২৩৫ views

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে বিপুল অনুদানের ফলে তৈরি হয়েছে নগদ অর্থের (রুপি) পাহাড়! ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ অর্থ এনে ঘরের মাঝে ঢালা হচ্ছে আর চারদিকে বসে থাকা মানুষ একটানা গুনে চলেছেন। এই বিপুল অর্থ গোনার জন্য আনা হয়েছে আধুনিক মেশিনও।

জানা গেছে, অনুদান হিসেবে এসেছে ১১টি ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ রুপি। আর এগুলো গোনার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩০ জন কর্মীকে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে।

অনুদানের এই অর্থ জমা পড়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ ইসলামিক ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’র অধীনে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত যত নগদ অর্থ জমা পড়েছে, তা আলেম-ওলামাদের উপস্থিতিতে গণনা শুরু হয়। রাত ১২টার পরও চলতে থাকে গণনার কাজ। তখন পর্যন্ত ৭টি ট্রাঙ্ক খোলা হয়, সেখান থেকে মেলে ৩৭ লাখ রুপি। পুরো অর্থ গণনার কাজ চলছে সিসিটিভির কড়া নজরদারিতে।

হুমায়ুন কবীর জানান, বাবরি মসজিদ নির্মাণের আগেই তিনি কতটা জনপ্রিয়, তা এই বিপুল অনুদান দেখেই বোঝা যায়। তার দাবি, শুধুমাত্র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন কিউআর কোড স্ক্যান করেই জমা পড়েছে ৯৩ লাখ টাকা! এছাড়া, মসজিদ নির্মাণের জন্য ২ দিনেই দান হিসেবে জমা পড়েছে অন্তত ১৫ লাখ ইট।

এর আগে, ৬ ডিসেম্বর (শনিবার) বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন মুর্শিদাবাদে আবারও বাবরি মসজিদের নির্মাণের জন্য শিলান্যাস করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজে হাতে ইট নিয়ে তিনি হাজিরও হয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি জানিয়েছিলেন, বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে খরচ হবে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা।

তবে টাকা নিয়ে চিন্তা করছেন না হুমায়ুন। কারণ, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তিই নাকি বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য ৮০ কোটি টাকা অনুদান দেবেন বলে জানিয়েছেন। আরও বহু মানুষ টাকা দিচ্ছেন।

হুমায়ুন দাবি করেন– মুর্শিদাবাদের সঙ্গে বীরভূম ও মালদহ থেকে বাবরি মসজিদ তৈরির প্রস্তাব এসেছে। রামপুরহাট, সিউড়ি থেকে কিছু লোক এসে অনুরোধ করেছেন। বীরভূম ও মালদহতে বাবরি মসজিদের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাসও দেন হুমায়ুন।

বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য যে আপাতত টাকার অভাব হবে না, তা এই বিপুল জমা অর্থ দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে। তবে এই নগদ অর্থ গণনার দৃশ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। সাধারণ মানুষের একাংশ হুমায়ুনের স্বচ্ছতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে অনুদানের উৎস, হিসাব ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: