
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বোয়ালিয়া মডেল থানার সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার কারণে থানাটির কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে থানা প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অবস্থান করা মনিরুল ইসলাম শরীফ নামের এক ব্যক্তিকে রাজশাহীতে ঘটে যাওয়া একটি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এছাড়া, গত ৪ এপ্রিল রাজশাহীর পদ্মা গার্ডেনে গ্যারেজ ফি নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকির মামলা দায়ের করা হয়, যা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, গত ২৩ এপ্রিল মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এক মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা এবং নামের আংশিক মিল থাকায় যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠে।
গ্রেফতারের পর মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয় ।
সম্প্রতি এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা গ্রহণ না করা এবং ভুক্তভোগীকে হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, বর্তমান ওসির কর্মকাণ্ডে তারাও সন্তুষ্ট নন। বোয়ালিয়া মডেল থানার জন্য স্মার্ট ও দক্ষ অফিসার ইনচার্জ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আরএমপি মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “থানায় গিয়ে কেউ যদি মনে করে হয়রানি বা ন্যায়বিচার পাচ্ছে না, তাহলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো ওসি এজহার পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন না। এজহারে উল্লেখিত বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে পরবর্তীতে চার্জশিট দাখিল করা”।
