স্পোর্টস ডেক্সঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশ ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রান এবং টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসান সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। সাইফ হাসান করেন ৩৭ বলে ২৬ রান। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নেন ২ উইকেট।
দারুণ ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন জিম্বাবুয়ের ক্রেইগ আরভিন। এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করল জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে, ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করতে হলো বাংলাদেশকে।
খেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ দারুণ সাফল্য পেয়েছে রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং। প্রতিযোগিতায় ৬টি স্বর্ণ ও ৬টি রৌপ্যসহ মোট ১২টি পদক জিতেছে দলটির খেলোয়াড়রা।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) জিমনেসিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত টুর্নামেন্টে দেশের সাতটি জেলার ২৯টি ক্লাবের ৪৮০ জন খেলোয়াড় অংশ নেন।
রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের পক্ষে অনূর্ধ্ব-৭ পুরুষ বিভাগে প্রিন্স আদনান একক পুমসে ও কিওরোগীতে দুটি স্বর্ণপদক জেতে। অনূর্ধ্ব-৯ বিভাগে মো. আহনাফ ইসলাম কিওরোগীতে স্বর্ণ ও পুমসেতে রৌপ্য এবং অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে মো. আবির আহমেদ পরশ পুমসেতে স্বর্ণ ও কিওরোগীতে রৌপ্যপদক অর্জন করে।
নারী বিভাগে অনূর্ধ্ব-৭ শ্রেণিতে ফাহমিদা হক ইরা পুমসে ও কিওরোগীতে দুটি স্বর্ণপদক জেতে। অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে মারিন আশরাফী পুমসেতে স্বর্ণ ও কিওরোগীতে রৌপ্য এবং অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে জাফরিন জারা দুটি ইভেন্টেই রৌপ্যপদক অর্জন করে।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা।
রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের এ সাফল্যে খেলোয়াড়, কোচ ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
জাপানে বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দুই বক্সারকে সংবর্ধনা দিলেন ফয়সাল শেখ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান মামুনুর রশিদের
রাজশাহীর দুই বক্সার সেলিম আহমেদ ও উৎসব আহমেদকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। জাপানে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল বক্সিং গেমসে অংশ নিতে যাওয়া এই দুই বক্সারকে সম্মাননা জানান জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী দল, রাজশাহী মহানগরের সদস্যসচিব ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফয়সাল শেখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ ফয়সাল শেখ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ। তিনি দুই বক্সারের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মাদককে ‘না’ বলতে হবে এবং তরুণদের খেলাধুলার মাঠে আসতে হবে। খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। সেলিম আহমেদ ও উৎসব আহমেদের মতো খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করলে অন্য তরুণেরাও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের আয়োজক মোহাম্মদ ফয়সাল শেখ বলেন, তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং ক্রীড়াবিদদের অর্জনকে সম্মান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সদস্যসচিব বজলুজ্জামান মোহন, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল হক ফাহী, শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন।
এ সময় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আক্তার হোসেন, কিসমত হাজী, আমিন, কাউসার, বাবলু, নুর উদ্দিন মুন, টিপু, রবি, ফজলু শেখ, মিরাজ শেখ, জুয়েল রেজা, রেজাউল মোস্তফা রনি ও হেলালসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীরা রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মামুনুর রশিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
শেষে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মরহুম নুরুজ্জামান টিটুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৮ জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্টে মেয়েদের একক ও দ্বৈত—দুই ইভেন্টেই শিরোপা জিতেছে চীন। মেয়েদের এককে নিজ দেশের প্রতিপক্ষ জেনসি ডঙকে ৬-০, ৬-০ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চীনের জিমো সঙ।
অন্যদিকে মেয়েদের দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চীনের সিয়াং জিয়াং ও শুয়াং জু জুটি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে মেয়েদের এককের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন জিমো সঙ। দুই সেটেই জেনসি ডঙকে কোনো গেম জিততে না দিয়ে সরাসরি শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি। ফাইনালে এমন একতরফা জয় টুর্নামেন্টের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। পরে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের দ্বৈত ইভেন্টের ফাইনাল। এ ইভেন্টে চীনের সিয়াং জিয়াং ও শুয়াং জু জুটি চ্যাম্পিয়ন হন। এককের ফাইনাল একতরফা হলেও দ্বৈতের লড়াই ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
টুর্নামেন্টের রেফারি জয় মুখার্জী বলেন, মেয়েদের এককের ফাইনালটি কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে একতরফা হয়ে গেছে। জিমো সঙ ৬-০, ৬-০ গেমে জিতেছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে চীনের খেলোয়াড়েরা যথেষ্ট ভালো খেলেছেন। তবে ফাইনালে এমন একতরফা লড়াই হবে, তা তাঁরা আশা করেননি। মেয়েদের দ্বৈত ফাইনাল প্রসঙ্গে জয় মুখার্জী বলেন, এই ম্যাচে দুই পক্ষের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত চীনের সিয়াং জিয়াং ও শুয়াং জু জুটি শিরোপা জিতেছে। মেয়েদের দুই ইভেন্টেই চীনের খেলোয়াড়দের সাফল্য টুর্নামেন্টে দেশটির শক্তিশালী উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
এদিকে শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে ছেলেদের এককের ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন থাইল্যান্ডের লিকুল পার্টচারাপুল ও তাইওয়ানের জিচে চেন। শুক্রবারের সেমিফাইনালে হংকংয়ের চুন কিউ লককে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন লিকুল পার্টচারাপুল। অন্য সেমিফাইনালে চীনের ফ্যাং তিয়ানিকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন জিচে চেন। ছেলেদের এককের ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী টুর্নামেন্ট রেফারি জয় মুখার্জী। তিনি বলেন, ফাইনালে ওঠা দুই খেলোয়াড়ই ভালো র্যাঙ্কিংয়ের। তাঁরা টুর্নামেন্টে একাধিক কঠিন ম্যাচ জিতে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। তাই ছেলেদের এককের ফাইনালটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
গত ৫ অক্টোবর রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে ৩১তম আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৮ জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট। এ প্রতিযোগিতা শেষ হবে শনিবার (১০ অক্টোবর)। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ দশ দেশের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে ৩১তম রাজশাহী ইন্টারন্যাশনাল (অনূর্ধ্ব-১৮) জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে ও কেক কেটে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ দশটি দেশের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। অন্য দেশগুলো হলো ভারত, থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে, হংকং, নেপাল, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের রাজশাহীতে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তরুণ খেলোয়াড়েরা অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট আয়োজন একটি মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। এ ধরনের আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে। বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সাহস তৈরি করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বলেন, রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে মহানগরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের যেকোনো প্রয়োজন ও সমস্যায় সিটি করপোরেশন পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হলেন ইশতিয়াক আহমেদ কারেন বলেন, রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছে। এবারের আসরেও বিদেশি খেলোয়াড় ও তাঁদের অভিভাবকদের স্বাগত জানান তিনি। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি খেলার এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। ইশতিয়াক আহমেদ আরও বলেন, টুর্নামেন্টের রেফারি জয় মুখার্জী প্রায় ১০ বছর ধরে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত। এ সময় তাঁকে কেক কেটে অভিনন্দন জানানো হয়। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক এই জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্ট তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাঁরা অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি টুর্নামেন্টের আয়োজক, কোচ, খেলোয়াড়, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। আন্তর্জাতিক এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজশাহীতে এত বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি সফল হবে বলে আশা করেন তিনি। রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেটের বক্তব্যেও টুর্নামেন্টের সফলতা কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. ফয়জুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আশিক সাঈদ। স্বাগত বক্তব্য দেন টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু। এছাড়াও রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, টুর্নামেন্টের মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মামুন, সদস্য সবুর আলী, টেনিস কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়, কোচ, অভিভাবক ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা জানান, টুর্নামেন্টটি ৫ থেকে ১০ অক্টোবর রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বালক ও বালিকা এককে ৩২ জন করে এবং দ্বৈত ইভেন্টে ১৬টি করে ড্র থাকবে। বালকদের মধ্যে থাইল্যান্ডের লিকুল পাটচারাফুল এবং বালিকাদের মধ্যে ভারতের শেখ শাজফা শীর্ষ র্যাংকিংয়ের খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। এবারের আসরে রাজশাহীর পাঁচজন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাঁদের মধ্যে রাকিন রহমান ও বকুল আলী মেইন ড্রয়ে খেলবেন। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফারি ভারতের জয় মুখার্জী টুর্নামেন্ট রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আয়োজকেরা মনে করছেন, এই প্রতিযোগিতা দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ করে দেবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বোলিং প্রতিভা খুঁজে বের করে তাঁদের জাতীয় পর্যায়ের জন্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’-এর রাজশাহী বিভাগীয় বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী এ বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বাছাইপর্বে প্রায় দুই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। তাঁদের মধ্য থেকে দুই নারী ক্রিকেটারসহ মোট ১৬ জন প্রতিভাবান বোলারকে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রবি আজিয়াটা পিএলসির রিজিওনাল হেড রাজু আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহফুজুর রহমান রিটন নির্বাচিত খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘রবি বোলার হান্টে আজ যারা নির্বাচিত হয়েছ, তোমাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। তোমাদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘রবি বোলার হান্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা উঠে আসবে।’
এ সময় তিনি প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে শুরু হচ্ছে ৩১তম আন্তর্জাতিক (অনূর্ধ্ব-১৮) জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। আগামী ৫ থেকে ১০ অক্টোবর রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্ট। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ দশটি দেশের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন আয়োজকেরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু। প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, মিডিয়া কমিটির কমিটির সদস্য ও রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শ.ম. সাজু, পরিচালনা কমিটির সদস্য আক্কাস আলী, রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সিনিয়র সদস্য মনোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।
টুর্নামেন্টের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু জানান, আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের অনুমোদনে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদানে এবং বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সহযোগিতায় এবারের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স। তিনি আরও বলেন, বিদেশি খেলোয়াড়, কোচ, অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের থাকার জন্য রাজশাহী পর্যটন মোটেল, হোটেল এক্স ও গ্র্যান্ড রিভার ভিউ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব হোটেল ও মোটেল থেকে টেনিস কমপ্লেক্সে যাতায়াতের জন্য সার্বক্ষণিক দুটি মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দর্শকদের জন্য টুর্নামেন্টের খেলা দেখার কোনো প্রবেশমূল্য রাখা হয়নি। শিশু ও কিশোরদের টেনিসের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলা দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের খেলা। ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে মূল পর্বের খেলা। ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ফাইনালের পর বিজয়ী ও রানার্সআপ খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে, হংকং, নেপাল, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়েরা এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।
বালকদের মধ্যে র্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন থাইল্যান্ডের লিকুল পাটচারাফুল। তাঁর আইটিএফ বিশ্ব জুনিয়র র্যাংকিং ১ হাজার ৫৯। অন্যদিকে বালিকাদের মধ্যে শীর্ষ র্যাংকিংয়ের খেলোয়াড় ভারতের শেখ শাজফা। তাঁর আইটিএফ বিশ্ব জুনিয়র র্যাংকিং দুই হাজার ৪৫।
টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা এককে ৩২ জন করে খেলোয়াড়ের ড্র থাকবে। এর মধ্যে আটজন করে খেলোয়াড় কোয়ালিফাইং রাউন্ড এবং চারজন করে ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে মূল পর্বে জায়গা পাবেন। রাজশাহীর মোট ৫ জন এই টুর্নামেন্টে খেলবেন। এর মধ্যে মেইন ড্রোতে খেলবেন রাকিন রহমান ও বকুল আলী। এ ছাড়া বালক ও বালিকা দ্বৈত ইভেন্টে ১৬টি করে ড্র থাকবে। আয়োজকেরা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রাজশাহীতে টেনিসের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। টুর্নামেন্ট সফল করতে পরিচালনা কমিটির সদস্যরা কাজ করছেন।
টুর্নামেন্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফারি ভারতের জয় মুখার্জী। তিনি বলেন, “রাজশাহীতে এই আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্টের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি আমার দশম টুর্নামেন্ট, তাই এই আয়োজন আমার জন্যও বিশেষ। টুর্নামেন্টটি আন্তর্জাতিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করব। আশা করি, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এই প্রতিযোগিতা ভালো অভিজ্ঞতা ও নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করবে।”
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেখালি এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে আট দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় সুদীপ্তি যুব সংঘ ও আসিয়া দই ফিন্নি ভান্ডার ফুটবল একাদশ। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় ২-১ গোলের ব্যবধানে আসিয়া দই ফিন্নি ভান্ডার ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সুদীপ্তি যুব সংঘ।
খেলার শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সুদীপ্তি যুব সংঘ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ফাইনাল খেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক সরদার, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মল্লিকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ফাইনাল খেলায় প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন রিজভী।
টুর্নামেন্টটির আয়োজন করে সুদীপ্তি যুব সংঘ। দীর্ঘদিন পর ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে এমন বড় পরিসরের ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থনে পুরো মাঠ পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়।
দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন পর এমন সুন্দর ও প্রাণবন্ত ক্রীড়া আয়োজন উপভোগ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন করার আহ্বান জানান এবং আয়োজক সুদীপ্তি যুব সংঘকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাঠমুখী করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হেতালখালি মানব সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় হেতালখালি নাসিরাবাদ দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হেতালখালি মানবসেবা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা গাজী রবিউল ইসলামের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হেতালখালি মানব সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাংবাদিক এম এ রশিদ, উপদেষ্টা গাজী রবিউল ইসলাম, সদস্য মিয়ারাজ হোসেন, নাসিরাবাদ দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সালাম, সিরাতুন হোসেন, লাভলু, হিরণ কুমার বাউলিয়াসহ মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।
হেতালখালি মানব সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাংবাদিক এম এ রশিদ বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন আসক্তিতে সময় ব্যয় করছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে ওঠে।
ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা গাজী রবিউল ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশকাল ডেস্ক :
অস্ট্রেলিয়ার শঙ্কা জেগেছিল চা বিরতির আগেই গুটিয়ে যাওয়ার। তবে নাথান লায়নকে সঙ্গে নিয়ে তেমন কিছু হতে দেননি স্টিভেন স্মিথ। বিরতি থেকে ফিরে আর পারলেন না অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে ফিরলেন তিনি। এর পরপরই শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধও। টিকতে পারল না একদিনও।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। বাংলাদেশের পেস আগুনে পুড়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভার ব্যাট করে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া।
বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছিলেন স্মিথ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়া স্বাগতিকদের টেনে তোলার দায়িত্বটা নিয়েছিলেন নিজের কাধে। ইনিংসে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে হাফসেঞ্চুরির দেখাও পেয়েছিলেন স্মিথ, ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। তবে সেই আশা পূরণ হতে দিলেন না হাসান।
চা বিরতি থেকে ফেরার পর তৃতীয় ওভারেই হাসানের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন স্মিথ। ফিরেছেন ১০৯ বলে ৭১ রান করে।
স্মিথকে ফিরিয়েই ইতিহাস গড়েছেন হাসান। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়েই তুলে নিয়েছেন ফাইফার। নিজের পরের ওভারে এসেই অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঢুকে দেন হাসান। লায়নকে (১৩ বলে ৭) ফিরিয়ে গুটিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। ১৭ ওভার বল কের ৫৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি।
বাংলাদেশের পেস আগুনে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া
চিরচেনা কন্ডিশনেও যেনো অচেনা লাগছে অস্ট্রেলিয়াকে। আর হাসান মাহমুদ-ইবাদত হোসেনদের বোলিং দেখে মনে হচ্ছে কত চেনা কন্ডিশনে বোলিং করছেন তারা। সাফল্যও ধরা দিচ্ছে নিয়মিত। দিনের প্রথম দুই সেশন শেষ হওয়ার আগেই ৭ উইকেট নিজেদের ঝুঁলিতে ভরেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ সাফল্য হাসান মাহমুদের। ফিরিয়েছেন অসি অধিনায়ক কামিন্সকে।
বড় দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পরে টেস্ট দলে ফেরা প্যাট কামিন্স। ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলা। কিন্তু স্টিভেন স্মিথকে বেশি সময় সঙ্গ দিতে পারলেন না তিনি। হাসান মাহমুদের বলে ফিরলেন উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে ১৯ বলে ৯ রান এসেছে কামিন্সের ব্যাট থেকে।
এরপর উইকেটে নেমে মিচেল স্টার্ককেও বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি হাসান। নিজের পরের ওভারে এসেই অসি পেসারের উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। ৮ বলে ১ রান করেছেন তিনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করে যাচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ। তিনিই শেষ ভরসা অসিদের।
তাসকিনের বলে বাংলাদেশের উইকেটের ‘ছক্কা’
উইকেটে এসেই হাত খুলে খেলা শুরু করেছিলেন বেউ ওয়েবস্টার। তাকে বেশি সময় সেই সুযোগ দিলেন না তাসকিন আহমেদ। দারুণ গতিময় বলে উড়িয়ে দিলেন স্ট্যাম্পের বেলস। আরেকটি উইকেটে স্বস্তি ফিরল বাংলাদেশ শিবিরে।
অ্যালেক্স ক্যারি ফেরার পর উইকেটে এসে অ্যাটাকিং ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন ওয়েবস্টার। দুটি চারও হাঁকিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চাপ অনুভব না করে উল্টো তাকেই ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়েছেন তাসকিন। ৩৯তম ওভারে ফেরার আগে ১০ বলে ১২ রান করেন ওয়েবস্টার।
ইবাদতের স্যালুটে ভাঙল স্মিথ-ক্যারির জুটি
মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই চার উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের চেনা কন্ডিশনেও অচেনা লাগছিল অস্ট্রেলিয়াকে। তবে বিরতির পর বদলে গিয়েছিল চিত্র। অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে জুটি গড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। অবশেষে সেই জুটি ভেঙে সেলিব্রেশনের ট্রেডমার্ক ‘স্যালুট’ দিলেন ইবাদত হোসেন।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে হতাশ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্মিথ আর ক্যারি। এই জুটিতে অর্ধশত রান তুলে ফেলেছিলেন দুজন। ৩৭তম ওভারে এসে ক্যারিকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙলেন এবাদত। ৪৩ বলে ১৯ রান করে ফিরেছেন তিনি।
হাসান-ইবাদতদের ঝলকে প্রথম সেশন বাংলাদেশের
বাংলাদেশকে হতাশ করে উদ্বোধনী জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। টাইগাররাও ভয় পায়নি, দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচে ফিরেছে দাপটের সঙ্গে। হাসান মাহমুদ-ইবাদত হোসেনদের পেস আগুনে পুড়েছে ট্রাভিস হেড-মার্নাস লাবুশেনরা। এতে দারুণ একটি সকাল কাটিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।
হাসান আর ইবাদতের ঝলকে অস্ট্রেলিয়ার তিন টপঅর্ডার ব্যাটারকেই ফিরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তুলে ফেলা অস্ট্রেলিয়া পরের ১৬ রান তুলতেই হারায় তিন উইকেট। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সাফল্যের ঝুঁলিতে আরেকটি পালক যোগ করেন তাসকিন আহমেদ।
মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগের বলে তাসকিন ফিরিয়ে দেন নতুন ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে। উইকেটে এসে কিছুটা ওয়ানডে মেজাজে শুরু করেছিলেন তিনি। তবে লম্বা হয়নি সেই ইনিংস, থেমেছে ১৩ বলে ১৩ রানেই।
উইকেট তুলে নিলেন ইবাদতও
দুই ওপেনারকে হারানোর পর জুটি গড়ার লক্ষ্য ছিল লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হতে দেননি ইবাদত। ১৯তম ওভারে টাইগার পেসারের বলে খোঁচা দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন লাবুশেন। ফেরার আগে ২০ বলে ১ রান।
অস্ট্রেলিয়ায় হাসান জাদুতে দারুণ শুরু বাংলাদেশের
দীর্ঘ ২৩ বছর পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে শুরুটাও হলো ভালোই। টাইগারদের সাফল্য এনে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। প্রথম সকালেই দুই উইকেট তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। ফিরিয়েছে দুই ওপেনারকে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছি অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড আর জ্যাক ওয়েদারাল্ড। উদ্বোধনী জুটিতেই প্রায় হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন তারা। এরপরই নিজের ঝলক দেখান টাইগার পেসার হাসান।
১২তম ওভারে ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে ভাঙেন এই জুটি। উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ২৩ রান। এরপর বেশি সময় উইকেটে টিকতে দেননি আরেক ওপেনার হেডকেও। নিজের পরের ওভারে এসে ভেঙে দেন হেডের স্ট্যাম্প। ৩৯ বলে ২২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
