নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
পদ্মার বুক থেকে সেদিন ফিরে এসেছিল ছয়টি প্রাণ। কিন্তু ফিরতে পারেননি আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল। নদীর কালো জলে হারিয়ে যাওয়া দুই মানুষকে ঘিরে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে জাহেরা বেগমের ঘর যেন মুহূর্তেই নিভে গেছে। সেই শোকের ভার কাঁধে নিয়ে এখন তাঁকে ভাবতে হচ্ছে পিতৃহারা দুই নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়েও। এমন এক অসহায় সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী মহানগর যুবদল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় জাহেরা বেগমের পিতৃহারা দুই নাতি-নাতনির দায়িত্ব নিয়েছে মহানগর যুবদল। একই সঙ্গে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী। আর যে নদী কেড়ে নিয়েছে তাঁর স্বামী-সন্তানকে, সেই পদ্মায় আর কোনো পরিবার যেন এমন শোকের মুখোমুখি না হয়—এই প্রত্যয়ে মাঝিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে লাইফ জ্যাকেট। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায় জাহেরা বেগমের পরিবারের হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে নগরীর বড়কুঠি ঘাটে নৌকার মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রবি। এর আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মার চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় করে ফিরছিলেন আটজন। মাঝ নদীতে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। যাত্রীরা পানিতে ঝাঁপ দিলে অন্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান মাঝি আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল।
খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহেরা বেগম বলেন, ‘নৌকাডুবিতে আমি আমার স্বামী ও কলিজার টুকরা ছেলেকে হারিয়েছি। একসঙ্গে দুই আপনজনকে হারিয়ে আমার ঘরটা মুহূর্তেই শূন্য হয়ে গেছে। এই কষ্ট আমি কীভাবে সহ্য করব, জানি না। এই দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যুবদল আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, খাবারের ব্যবস্থা করেছে এবং আমার পিতৃহারা দুই নাতি-নাতনির দায়িত্ব নিয়েছে। তাঁদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
লাইফ জ্যাকেট হাতে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বড়কুঠি এলাকার নৌকার মাঝি শরিফুল বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন জীবিকার জন্য পদ্মা নদীতে নৌকা চালাই। নদীর ঝুঁকি সম্পর্কে আমরা জানি। কিন্তু অনেক সময় যাত্রীদের তাড়া বা অসচেতনতার কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়। নৌকাডুবির সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। যুবদলের পক্ষ থেকে লাইফ জ্যাকেট দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। এখন থেকে আমরা নিজেরা লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করার পাশাপাশি যাত্রীদেরও তা ব্যবহারে উৎসাহিত করব।’
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় জাহেরা বেগমের পিতৃহারা দুই নাতনির দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। পরিবারের পাশে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রাণহানি কমাতে মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেছি। আমরা চাই না পদ্মার বুকে আর কোনো নৌকাডুবিতে কোনো মায়ের বুক খালি হোক।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসদুল হক মৃধা মমিন, মো. মজিবুল হক মিলন, সদস্য রবিন হোসেন, বোয়ালিয়া পশ্চিমের যুবনেতা মিনহাজুল ইসলাম মানিকসহ মহানগর যুবদলের সদস্যরা।
রাজশাহী
রাজশাহীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহীঃ
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ দুইজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কাশিয়াডাঙ্গা থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হড়গ্রাম নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. তারেকের স্ত্রী মোসা. ইলোরা ওরফে সুমি (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর হেফাজতে তল্লাশি চালিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, এর আগের দিন সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তালাইমারি শহীদ মিনার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা মৃত মালু শেখের ছেলে শহিদুল (৬২)-কে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর দেহ তল্লাশি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আরএমপি জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মাদক নির্মূলে রাজশাহী মহানগরজুড়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
শাহীন শিক্ষা পরিবারের ইংরেজি বানান প্রতিযোগিতা আয়োজনে আরএমপির সহযোগিতা কামনা
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ জাতীয় পর্যায়ে ইংরেজি বানান প্রতিযোগিতা ও টিভি রিয়্যালিটি শো আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে শাহীন শিক্ষা পরিবার। এ আয়োজন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে শাহীন স্কুল রাজশাহী শাখার নির্বাহী পরিচালক শাহেদ হাসানের নেতৃত্বে শাহীন শিক্ষা পরিবারের একটি প্রতিনিধি দল আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে শাহীন শিক্ষা পরিবারের পরিচালক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল জাতীয় ইংরেজি বানান প্রতিযোগিতা ও টিভি রিয়্যালিটি শো আয়োজনের পরিকল্পনা ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় শাহীন শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারের হাতে একটি স্মারক (স্যুভেনির) তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি অনুষ্ঠান চলাকালে প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
বুধবার (২৯ জুলাই) মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদক মামলার অভিযুক্ত এবং অন্যান্য মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আরএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন, মাদক মামলার ৬ জন এবং অন্যান্য মামলার ৮ জন রয়েছেন। নিয়মিত অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল।
মঙ্গলবার (২৮জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে মতিহার থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বশির উদ্দিন সনির উদ্যোগে নগরীর তালাইমাড়ি ও কাজলা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসময় ২৮ নং ওয়ার্ড (পশ্চিম) যুবদলের আহবায়ক ইমদাদুল হক মিলন, যুগ্ম আহবায়ক মো: ফরিদ হোসেন, ২৮ নং ওয়ার্ড (পশ্চিম) জাসাস সভাপতি আল আমিন মিলন, যুব নেতা মো: লিটন সহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং তালাইমারি দারুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সবুজ নগরী গড়তে দুই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৩০০ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ সময় মতিহার থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বশির উদ্দিন সনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবেন। তারই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন নগর জুড়ে ২৫ লক্ষ বৃক্ষরোপনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। মূলত তার নির্দেশেই যুবদলের নেতা কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না তার রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। সেই দায়িত্ব যুবদল পালন করবে।
রাজশাহীতে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মানোন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার, বিতরণ হলো আর্থিক সহায়তার চেক
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
মাদকাসক্তদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে রাজশাহীতে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পরিবার ও সমাজের জন্যও একটি বড় সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় মানসম্মত চিকিৎসা, দক্ষ জনবল, আধুনিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মান উন্নত করা গেলে সমাজে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সেমিনার শেষে নির্ধারিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রাজশাহীতে পরিত্যক্ত বাড়িতে র্যাবের অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পিস্তলের দুইটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড তাজা গুলি, মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫, রাজশাহী।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-৫ রাজশাহীর একটি চৌকস আভিযানিক দল নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন নাদের হাজীর মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় বারু মিয়ার একটি পরিত্যক্ত ইটের তৈরি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ওই বাড়ির বাথরুমের জন্য তৈরি বাঁশের মাচার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি কালো রঙের পিস্তলের ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, দেড় পিস ইয়াবা, এক পুরিয়া গাঁজা, গাঁজা সেবনের একটি কলকি, তাসের এক সেট এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র।
উদ্ধার করা দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— দুটি হাসুয়া, একটি কাস্তে, দুটি ছুরি, একটি মাছ ধরার কোচ, একটি সামুরাই এবং তিনটি প্লাস্টিকের পাইপ।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত আলামতগুলো সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৫, রাজশাহীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।
রুয়েটের প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের কাছে যোগদানপত্র জমা দিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় উপাচার্য নবনিযুক্ত প্রো-ভিসিকে রুয়েট পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে বরণ করে নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এস এম জহুরুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিব, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদৎ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার অমিত রায় চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এর আগে সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে রুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩’-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
দিনের আলো হিজড়া সংঘের আয়োজনে রিনিউড উইমেন ভয়েস এন্ড লিডারশীপ সংলাপ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দৈনিক বার্তা প্রতিবেদকঃ ২৭ জুলাই, ২০২৬ রাজশাহীতে দিনের আলো হিজড়া সংঘের আয়োজনে রিনিউড উইমেন ভয়েস এন্ড লিডারশীপ বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও রেফারেল নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগরীর রানীনগরস্থ একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের হলরুমে মানুষের জন্য ফাইন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক ইসরাত জাহান, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, বিইউপি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, আপস এর নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার পল্টু, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফ সুমন, মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি কল্পনা রায় এনজিও প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যগণ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিনিউড উইমেন ভয়েস এন্ড লিডারশীপ বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার আতিয়া তানসিমার সঞ্চালনায় প্রকল্প ও সংস্থার কার্যক্রম সর্ম্পকে তুলে ধরেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের সহ-সভাপতি পলি। এরপর শুরু হয় উন্মুক্ত আলোচনা। আলোচনায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে হিজড়া সুরক্ষা আইন পাশ করতে হবে। সেইসাথে আইনটি প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, হিজড়া/ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এখনও ন্যায়বিচার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনগত সহায়তা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, সামাজিক কলঙ্ক এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতির কারণে এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
তারা আরো বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করতে হলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ তাদেরকে উদ্যোক্ততা প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও তারা বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিবারে থাকার ব্যবস্থাসহ তাদের পিতা-মাতার সম্পদে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে সরকারী চাকরীতে অন্তভর্ূূক্তির জন্য কোটা বৃদ্ধিসহ সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।
এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিগণ বলেন, হিজড়া জনগণের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা বুঝে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করবেন। সেইসাথে অংশগ্রহণকারীরা হিজড়া/ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন ও জেন্ডার-সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভাপতি উপুস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সকলকে সুদৃষ্টি প্রদানসহ সহাভুতি প্রদান করে তাদেরকে আঘাত নয় ভালবেশে কর্মের ব্যবস্থা এবং পরিবারের তাদেরকে গ্রহন করার আহ্বান জানান। সেইসাথে যারা বয়স্ক হয়ে গেছেন তাদেরকে সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য এবং সংলাপ শেষ করেন।
সাংবাদিক সুরুজ আলীর মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের, মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ
রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে মামলাটি প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত ও অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২৭ জুলাই) এক প্রতিবাদলিপিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, মো. সুরুজ আলী আদালতের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীকে কথিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা ও গণমাধ্যমকর্মীদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সাংবাদিক মো. সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে হবে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবাদলিপিতে সাংবাদিক সমাজের ন্যায্য অধিকার, স্বাধীন পেশাগত পরিবেশ ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
