আজ- সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে নারীর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

by Prokash Kal
১১৮ views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে এক নারীর রেকর্ডেড ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় এবং পরে ভিডিও প্রকাশ করে মানহানির অভিযোগে এহেসান হাবিব তারা (৪২), অভিলাস দাস তমাল (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৪ জুন ভুক্তভোগী মাহবুবা খাতুন নীলা বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলাটি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার পূর্বপরিচিত রাজিব আলী রাতুল ও রাতুলের পিতা মাসুদ রানা সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যায় বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন উপশহর এলাকায় তার বাসায় এসে অভিযুক্ত এহসান হাবিব তারা, অভিলাস দাস তমাল এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বাদী নগদ, বিকাশ ও অন্যান্য মাধ্যমে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বাকি দেড় লাখ টাকার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। তিনি ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার এবং রাজিব আলী রাতুলের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

জানা যায়, এহসান হাবিব তারার বিরুদ্ধে গর্ভবতী এক নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ না করা, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়া সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং নিজেই একটি প্রেসক্লাব গঠন করে সভাপতি দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ওই প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে তার তিন ভাই রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এহসান হাবিব তারার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অভিলাস দাস তমালের বিরুদ্ধেও মাদক, জুয়া এবং ব্যাংক ও এনজিওর চেকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, তমাল নারী সাপ্লাই, হানি ট্র্যাপ এবং অনলাইন জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে, যাদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসাও পরিচালিত হয়।

এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করতে পারেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো নুরুন্নবী হোসেন জানান, “মামলাটির তদন্ত চলছে। এর জন্য যেসব জায়গায় আবেদন করার প্রয়োজন সেগুলো করেছি। এখনও কোনো আসামি আটক হয়নি তবে আসামি ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: