আজ- শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে খোলা মাঠে মুরগির বিষ্ঠা: দূর্গন্ধ আর রোগ-জীবানুতে জনভোগান্তি

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর ফসলের মাঠে খোলা জায়গায় প্রতিরাতে ফেলা হচ্ছে গাড়ীবোঝাই পল্ট্রি খামারের বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সেখানকার জনজীবন। সেইসাথে ছড়াচ্ছে রোগজীবানু, ব্যহত নিরাপদ ও স্বাস্থসম্মত মৎস্য উৎপাদন। প্রভাশালীদের দাপটে অসহায় ঐ এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হলে স্থানীয়রা তাদের কাছে এরকম অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজশাহীর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য এনে কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় খোলামেলা স্থানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বেড়ছে মাছি-সহ নানা রকমের পোকার উপদ্রব।

তারা জানান, দুর্গন্ধযুক্ত (বিষ্ঠা ফেলা স্থান) সেই জমির পাশ দিয়েই এ অঞ্চলের রাস্ত , এ রাস্তা দিয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। দুর্গন্ধের কারনে সেখান দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানোই যায় না। শুধু তাই নয়, মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে এলাকায় মাছির উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব মাছি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে। এছাড়াও ওই এলাকার আশপাশে অসংখ্য পুকুর রয়েছে যেখানে মাছ চাষ করা হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে মাছের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস চাষীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব মুরগির বিষ্ঠা ফেলা হচ্ছে। তিনি ওই জমিগুলো আদি-বর্গা হিসেবে চাষ করে থাকেন এবং তার নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে।

হযরত আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে হযরত আলী এসব অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে হুমকির সুরে কথা বলেন। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি কমলাপুর গ্রামের মোড়ে উপস্থিত হলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসময় সাংবাদিকদের সামনেই তিনি স্থানীয় ভ্যান চালককে মোটর সাইকেলের হেলমেট দিয়ে মারতে যান। আরও কয়েকজন গ্রামবাসী ঠেকাতে গেলে তাদের সাথেও মারমুখী আচরণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই কর্মযজ্ঞের হোতা হিসেবে নাবিল গ্রুপের নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নাবিল গ্রুপের লোকজন রাতের আঁধারে এগুলো ফেলে যায় !

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাদাত রত্ন’র বলেন, এর আগেও কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে তারপরও এরা এগুলো করছে। তারা রাতের আঁধারে এগুলো বহন করে তাই ধরা সম্ভব হয়না। তবে এবার তাদের ডাকা হয়েছে, তারা আমার কাছে আসবে।

আপনার অনুমতি নিয়ে তারা এগুলো করছে বলে অভিযোগ উঠেছে জানালে, এটা সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। তবে তিনি আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী

পুবালী মার্কেট শিরোইল কাঁচা বাজার রাজশাহী

মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬

মেইল : info@prokashkal.com

© ২০২৪ প্রকাশকাল সর্বসত্বাধিকার সংরক্ষিত