আজ- রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কারাগারে শিক্ষক

by Prokash Kal
২২ views

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন  হরগ্রাম এলাকার নাজিম কোচিং সেন্টারের পরিচালক দারা একাদশ শ্রেণীর  ছাত্রীকে শ্রীলতা হানির দায়ে, পরিচালক আহাদুজ্জামান নাজিমকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। ছাত্রীর পিতার নাম এশারুল হক তিনি হড়গ্রাম রানীদিঘী এলাকার  বাসিন্দা।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে,বাদীনি উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী, প্রায় ২ মাস থেকে আসামী আহাদ উদ্দিন নাজিম এর নিকট বাদীনিসহ আরো ৫জন শিক্ষার্থী ইংরেজীতে প্রাইভেট পড়েন।

গত (২৪ ফেব্রুয়ারি)মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেতে বাদীনিকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা থাকলেও একই তারিখ বেলা ১১.৩৮মি: আসামী যাদীনিকে মোবাইল ফোনে কল করে জানায় যে, আজকে প্রাইভেট পড়তে আসার দরকার নেই, আগামীকাল পড়াবো অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিয়েছি।

এরপর (২৫ ফেব্রুয়ারি) বুধবার ১২টার সময় কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন আসামীর ভাড়া বাসায় বাদীনি প্রাইভেট পড়তে গিয়ে দেখেন অন্য কোন শিক্ষার্থী নেই। বাদীনি আসামীকে অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্যা নাই তুমি একাই পড়। আসামী বাদীনিকে প্রায় ১ঘন্টা ঠিকমত প্রাইভেট পড়ান, ১ঘন্টা পর দুপুর আনুমানিক ১.৩০মি. আসামী আহাদউদ্দিন নাজিম কৌশলে কথার জালে বিভিন্ন কায়দায় বাদীনিকে কুপ্রস্তাব দেয়।
একপর্যায়ে আসামী তার ভাড়া  বাড়ীতে পরিবারের অন্যান্য সদস্য না থাকায় বাদীনিকে বই দেখানোর নাম করে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে বাদীনিকে জড়িয়ে ধরে বাদীনির শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌনপীড়ন করে।

বাদীনি আসামীর অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তাকে ধাক্কা দিয়ে তার ভাড়া বাসা হতে পালিয়ে আসতে লাগলে বিবাদী উক্ত ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে।

পরবর্তীতে বাদীনি বাসায় এসে তার পরিবারের সদস্যদের ঘটনার বিষয়ে জানায়।

এরপর (২৬ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বাদীনি দুপুর ২.৩০টার দিকে  পরিবারের লোকজন নিয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন হড়গ্রাম বাজার (জনৈক আব্দুল্লাহ এর বসত বাড়ীর ৩য় তলার ভাড়াটিয়া) আসামীর ভাড়া বাসায় গিয়ে বিবাদীকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে,বিবাদী উত্তেজিত হয়ে তাদের উপর চড়াও হয়।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় জনগণের তোপের মুখে পড়ে আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং বাঁচার জন্য কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশের উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় খবর দেয়।

জানা গেছে,নাজিম কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো:আহাদুজ্জামান নাজিম রাজাবাড়ি ডিগ্রী কলেজে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ের (প্রভাষক) হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি নগরীর ভাটাপাড়া এলাকায়।তিনি এর আগেও কয়েকবার ছাত্রীদের সাথে এমন অপকর্ম করে ধরা পড়েছে। তার নিজ কলেজেও শিক্ষার্থীর সাথে এমন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে আহাদুজ্জামান নাজিম এর বিরুদ্ধে।

তার নামে পূর্বের একাধিক মামলাও রয়েছে,মামলা নং- আরএমপি-রাজশাহী এর রাজপাড়া থানার এফআইআর নং-৩২/৪৯০, তারিখ-২৫ ডিসেম্বর, ২০২১, জিআর নং-৪৯০,ধারা-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/০৩,২০২০) এর ১০, এজাহারে অভিযুক্ত-চার্জশীট নং-১৮৮, তারিখ-৩১মে, ২০২২, এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আরএমপি-রাজশাহী এর কাশিয়াডাঙ্গা থানার এফআইআর নং-২, তারিখ-০৬সেপ্টেম্বর, ২০২৪, জিআর নং-১৮২, তারিখ-০৬সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ধারা-১৪৩/৪৪৮/৩৮০/৪২৭/৩০৭/৩২৩/৩২৬/৫০৬(২) পেনাল কোড-১৮৬০, এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলছেন, আহাদুজ্জামান নাজিম শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তিনি বারবার ছাত্রীদের শ্রীলতা হানির চেষ্টা করে জনগণের হাতে ধরা পড়ে। তিনি গোপনে কত ছাত্রীর জীবন নষ্ট করেছে তা আমাদের জানা নাই।এ সমস্ত কুলাঙ্গার শিক্ষকদের কারণে শিক্ষাঙ্গনে বদনাম ছড়িয়ে পড়ছে।অভিভাবকরা সন্তানদের কোচিং এ পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকপ্রায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে অভিভাবকরা বলছেন, এমন কুলাঙ্গার শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যা দেখে ভবিষ্যতে কোন শিক্ষক ছাত্রীর দিকে চোখ তুলে তাকাতে ভয় পাবে।

এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো:ফরহাদ আলী মুঠো ফোনে বলেন, ছাত্রীকে শ্রীলতা হানির দায়ে এলাকাবাসী গণধোলাই দিয়ে থানায় শোপর্দ করেছে। ভিকটিম  নিজে বাদী হয়ে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী

পুবালী মার্কেট শিরোইল কাঁচা বাজার রাজশাহী

মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬

মেইল : info@prokashkal.com

© ২০২৪ প্রকাশকাল সর্বসত্বাধিকার সংরক্ষিত