
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অত্যাধুনিক সেন্ট্রাল এসি মার্কেট থীম ওমর প্লাজা ঘিরে আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মার্কেট পরিচালনার নামে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী আনুমানিক ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
জানা যায়, মার্কেট নির্মাণ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী সরকারের সাবেক তানোর-গোদাগাড়ী আসনের এই সংসদ সদস্য। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভালো পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আশ্বাসে তারা উচ্চমূল্যে দোকান ক্রয় ও ভাড়া নিয়ে বিনিয়োগ করেন। তবে প্রত্যাশিত ব্যবসা তো দূরের কথা, অনেকে মূলধন তুলতেও ব্যর্থ হয়েছেন।
রমজানকে সামনে রেখে বর্তমান পরিচালনা প্রতিষ্ঠান জাকির এন্টারপ্রাইজ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মার্কেট অপারেশন কর্মকর্তা রায়হান, এডমিন কর্মকর্তা আওয়াল এবং টেকনিক্যাল সুপারভাইজার সুমন সরকার বলেন, ভালো পরিবেশ পেলে ক্রেতা বাড়বে ই বিশ্বাসে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়ম মেনে বিল নির্ধারণ করছি এবং ব্যবসায়ীদের লাভবান করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তারা আরও জানান, আগের সার্ভিস চার্জের বিল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে বিল আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুটে কমন বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং ক্লিনিং চার্জ ১২ থেকে ১৩ টাকা নেওয়া হতো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতি বর্গফুটে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা আদায় করা হয়েছে। অথচ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ডিএমডি মেজর এস এম মুজাহিদ মনির ও হেড অব মার্কেট অপারেশন ইঞ্জিনিয়ার মিরসাদের তত্ত্বাবধানে একই খাতে ব্যয় কমিয়ে ৯ থেকে ১৩ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রিপেয়ারিং বিলসহ।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, গত ৬ বছরে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা যদি লুটপাট হয়ে থাকে, তাহলে আমরা লাভবান হবো কীভাবে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পূর্বের বিল ও হিসাবপত্র যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। তারা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে থীম রিয়্যাল এস্টেটের হেড অব মার্কেট অপারেশন বলেন, আমি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর ডিএমডির নির্দেশনায় মার্কেট পরিচালনার প্রকৃত খরচ অনুযায়ী বিল করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ থাকলে পূর্বের বিল যাচাই করে দেখা যেতে পারে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
