
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) খাতে নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করতে জেন্ডার ধারণাকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে রাজশাহীতে বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন,“পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সেবায় সমতা নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে জেন্ডার বিষয়টি নীতিনির্ধারণের প্রতিটি স্তরে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন করা গেলে মাঠপর্যায়ে সেবার মান ও প্রবেশাধিকার বাড়বে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ট্রাস্টের আওতাধীন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এ কর্মশালার আয়োজন করে। সার্বিক সহযোগিতা দেয় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং তত্ত্বাবধানে ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট অধিশাখা।
আয়োজকরা জানান, জাতীয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কৌশল ২০২১-এর আলোকে ওয়াশ খাতে জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। কর্মশালায় জাতীয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কৌশল ২০২১-এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয় এবং জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া নির্দেশিকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, জাতীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য, অংশীজনদের ভূমিকা, জেন্ডার, জলবায়ু পরিবর্তন ও ওয়াশ খাতের আন্তঃসম্পর্ক এবং ত্রিমাত্রিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর এবং জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. মাহবুবা নাসরিন। তিনি বলেন, “জেন্ডার সমতা উন্নয়নের একটি মৌলিক শর্ত। ওয়াশ খাতে এটি সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে উপকৃত হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একেএম আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার সরকার, ডিএমডিএ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সভাপতি যোগেন্দ্র নাথ সরেন, রাজশাহী ওয়াসার সহকারী পরিচালক ফারহান শাহরিয়ার, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম।
অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নির্দেশিকাটিকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, ওয়াশ খাতে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করা না গেলে নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বঞ্চনার মুখে পড়েন। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর বোরহান উদ্দিন অন্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম, ডাসকো ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে একটি খসড়া সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়, যা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
