নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই এ অঞ্চলের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দার উন্মোচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেছেন, কৃষিভিত্তিক কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আত্মকর্মসংস্থানই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে পাঁচ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলার- ২০২৬ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সফল উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
রাসিক প্রশাসক রিটন বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিল থেকে উত্তরবঙ্গের কৃষি উদ্যোক্তারা ৯ শতাংশ সুদে সহজ শর্তে ঋণ পাবেন। এতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর উদ্যোক্তারা তাঁদের মেধা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। উৎপাদিত পণ্যের মানোন্নয়ন, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তাফা মামুন, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক সাইফুল ইসলাম হিরক, রাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুন ডলারসহ আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলায় ৬০টি স্টলে স্থানীয় ৬০ জন উদ্যোক্তা তাঁদের উদ্ভাবনী, কৃষিভিত্তিক ও দেশীয় বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মো. গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেন, এ ধরনের মেলা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
