নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে। ২৫ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর শিক্ষাজীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তাঁর দাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নানা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে শৈশব থেকেই তিনি আলোচনায় থাকলেও তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয়ের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আইনকে কেন্দ্র করে।
যুক্তরাজ্যে শিক্ষা ও আইন পেশার প্রস্তুতি
জাইমা রহমান ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। ২০০৮ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর লন্ডনে তাঁর উচ্চশিক্ষার পথচলা শুরু হয়। তিনি কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ব্যারিস্টার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
আইন বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তিনি সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইনের মতো বিষয়ে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। তাঁর কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আইন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে ভূমিকা রাখার ভিত্তি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ততা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। ওই প্রতিনিধিদলে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ছিলেন।
এ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দলীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি আলোচনায় আসে। এর আগে ও পরে তাঁর শিক্ষা ও আইন পেশাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে।
জাতিসংঘের কার্যালয়ে দায়িত্ব
২০২৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব পালনের খবর প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ দায়িত্ব তাঁর পেশাগত জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে তাঁর নিয়োগের ধরন, দায়িত্বের পরিধি এবং বর্তমান পদবি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক নথি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক উন্নয়নেও আগ্রহ
আইন পেশার বাইরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও জাইমা রহমানের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মতো বিষয় এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, সুশাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়ে তাঁর আগ্রহের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে তাঁর ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর পেশাগত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের ওপর।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা
রাজনৈতিক ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষা এবং আইন পেশার অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে জাইমা রহমানের পথচলা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব পেশাগত কাজ ও অবদানই ভবিষ্যতে তাঁর পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করবে।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি এবং পেশাগত জীবনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি আইন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
Tag:
