নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নারীসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বিভিন্ন ইউনিট। একই অভিযানে গাঁজা সেবনের সময় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে আরএমপির মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), এয়ারপোর্ট থানা, কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ি ও কর্ণহার থানা পুলিশ এসব অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল বোয়ালিয়া থানার খড়বোনা নদীরধার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি দোকানঘর থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ডলি বেগম (৫৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত কামাল শেখের মেয়ে ও মৃত ভুট্টু মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশের ভাষ্য, ডলি বেগম একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মাদকসংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এর আগে ১৮ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ বায়া ভোলাবাড়ি এলাকার আব্দুল গফুর আলীর আমবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সোহাগ আলী (২৯), রকি হোসেন (২৪) ও মানিক আলী (৩০) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গোলজারবাগ গুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজমুল হোসেন (৪০) নামের একজনকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেন। এ সময় হিরা (৫২) নামের এক নারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নাজমুল ও পলাতক হিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। হিরার বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় মাদকসংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, একই দিন রাত ৯টার দিকে কর্ণহার থানা পুলিশ মোল্লাডাইং গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গাফফার মন্ডল ওরফে গফুর (২৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
আরএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি হিরাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
