আজ- সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী আদালতে ঘুষকাণ্ডে বরখাস্ত কর্মচারীকে আবারও রেকর্ড রুমে পদায়ন

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অনুলিপি বিভাগের এক কর্মচারীকে দীর্ঘদিন পর আবারও আদালতের রেকর্ড রুম শাখায় দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতপাড়াজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ ২০২৫ সালে রাজশাহী সিএমএম আদালতের অনুলিপি শাখার অফিস সহকারী মিরা খাতুনের ঘুষ গ্রহণ ও লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে এক সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে দর-কষাকষি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২৬ মার্চ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সে সময় আদালতে সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ঘটনাটি তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ঘুষের অভিযোগ জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেক সচেতন নাগরিক।

জানা যায়, ঘটনার প্রায় এক বছর পর মিরা খাতুনকে পুনরায় রাজশাহী সিএমএম আদালতের রেকর্ড রুম শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা কিংবা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্টাফ জানান, যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুনর্বহালের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি কেন? আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে একই দপ্তরে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?

সচেতন মহলের মতে, বিচার বিভাগের অধীনস্থ কোনো দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা বিচারপ্রার্থীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ঘুষ গ্রহণ বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এছাড়া ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং প্রচলিত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মিরা খাতুনের পুনর্বহালের নেপথ্যের কারণ এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্তের বর্তমান অবস্থা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে আদালত প্রশাসনের স্বচ্ছ অবস্থান বিচারপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

এ বিষয়ে মিরা খাতুন বলেন আমি সাংবাদিকদের কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী সিএমএম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফুল হক রনির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আদালত বন্ধ থাকায় মহানগর দায়রা জজ আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: