
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী এলাকার কয়েকজন ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, জমি দখল, হুমকি এবং পরোক্ষভাবে মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৈয়দ হাসান মাহমুদ নামের এক ভুক্তভোগী । তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার মা জীবিত থাকা অবস্থায় মায়ের সৎ ভাইয়েরা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, প্রায় পাঁচ বছর আগেই তার মাকে মৃত দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে দেখানো হয়েছে যে তার মায়ের কোনো ওয়ারিশ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রতারণার ঘটনায় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মামলা করার উদ্যোগ নিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে চলতি বছরের ১০ মার্চ তার মা মারা যান। এরপর মাত্র আট দিনের ব্যবধানে তার বড় ভাইও মারা যান। তিনি দাবি করেন, এই দুই মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডই পরোক্ষভাবে দায়ী।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তিও দখল করে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলা করার পর থেকেই তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সোলায়মান ও আবু তাহেরকে মূলহোতা উল্লেখ করে বলেন, তাদের সহযোগিতায় আরও কয়েকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তিরা কিশোরদের নানা প্রলোভনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ব্যাংকে চাকরির আড়ালে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া খাদিজা বিনতে আফরোজা, এইচ এম বাইজিদ, এইচ এম নোমান, আবু তাহের, সোলায়মান মামলা তুলে নিতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে তিনি বলেন, চাটখিল থানার ওসি তাকে আইনগতভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং ধৈর্য ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নোয়াখালী অঞ্চলে চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
