
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। কেবল সার্টিফিকেট অর্জনই একজন চিকিৎসকের সাফল্যের শেষ কথা নয়; রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ, সহমর্মিতা ও আন্তরিক ব্যবহারই একজন চিকিৎসককে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দেয়।
আজ শনিবার (০১ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এমবিবিএস ৬২তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শপথ গ্রহণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার নামে আজ যে শপথ আপনারা নিয়েছেন, কর্মজীবনে যেন তার প্রতিফলন ঘটে সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে। অসহায় মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের রয়েছে দীর্ঘ গৌরবময় ঐতিহ্য। এ প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ডা. গোলাম মওলা, অধ্যাপক হারুন ও ডা. মাহবুব হাসানের মতো চিকিৎসকদের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষতার পাশাপাশি তাদের মানবিক আচরণই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সুনাম আরও বাড়িয়েছে।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার মায়ের চিকিৎসার সময় আমি উপলব্ধি করেছি, একজন চিকিৎসকের মৃদু হাসি ও আন্তরিক ব্যবহার রোগীর অর্ধেক কষ্ট দূর করে দিতে পারে। এ সময় তিনি প্রখ্যাত চিকিৎসক ড. বিধান চন্দ্র রায়ের মানবিক চিকিৎসাসেবার কথাও স্মরণ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী জানান, রাজশাহীতে একটি ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ এবং চীনের সহযোগিতায় একটি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১২ তলা হাসপাতাল ভবনের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা এবং শিশু হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুরও আশ্বাস দেন তিনি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াসিম হোসেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিএমএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোফাখারুল ইসলাম এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খোন্দকার মো. ফয়সাল আলম।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক, নবীন চিকিৎসক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে এমবিবিএস ৬২তম ব্যাচের ২১৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক শপথ গ্রহণ করেন
