
এম এ রশিদ, শ্যামনগর প্রতিনিধি :
সংযোগ সড়ক না থাকায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সিমানার খালের ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়কের অভাবে পাঁচ থেকে ছয় গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনান ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের মই দিয়ে সেতুর উপরে উঠে খাল পার হচ্ছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে উপজেলার ৬নং রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামে দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সিমানার খালের ওপরে ৩৩ লাখ টাকা ব্যায় করে সেতুটি নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজটি করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১ মাস আগেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতু পার হতে দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটি পানিবেষ্টিত হয়ে পড়ে আছে। ফলে প্বার্শেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী, ঠাকুরঘেরী, টেংরাখালী, গ্রামের বাসিন্দারা খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো ভয়ে ভয়ে বই-খাতা, নিয়ে পার হচ্ছে। টেংরাখালী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, সেতু করছে, কিন্তু সেতু পার হওয়ার কোনো রাস্তা নাই। কবে মাটি ফেলে রাস্তা করবে কে জানে।
মোহাম্মদ গাজী আক্ষেপ করে আরো বলেন, এদিকে সেতু করতে গেয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে আমার বসত ঘর ভেঙ্গে খালে চলে গেছে। ঠিকাদার বা পিআইও অফিসকে বললেও কিছু বলছে না আমি এর প্রতিকার চাই। রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ইউএনও ও পি আইও স্যারকে জানানো হয়েছে তারা সরেজমিনে এসে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পার্শ্বেখালি টেংরাখালী সীমানার ব্রিজ নতুন নির্মাণ হচ্ছে সেখান থেকে মাটি উত্তোলন করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে। এখন সেই ব্রিজের যখন মাটি-ভরাটের জন্য আর মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রিজের দুই মুখ থেকে গভীর করে মাটি নিতে গেলে দুই সীমানার রাস্তাটি ভাঙ্গন লেগে সম্পূর্ণ রাস্তাটি বিলীন হয়ে যায়।
শ্যামনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন ঠিকাদারকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে একটু বৃষ্টি কমলেই উনি কাজ শুরু করে দেবে।
