
এম এ রশিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) প্রতিরোধ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ-ইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন ১৭ বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের বিপরীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের ৭৪ ও ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জন পুরুষ, নারী ও শিশুকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সতর্ক নজরদারির কারণে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও এটিভির মাধ্যমে অতিরিক্ত রাত্রিকালীন টহল পরিচালনা, মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা এবং টহল দলকে বাঁশি, লাইট ও মেগাফোনসহ বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
এছাড়া নদী সীমান্তে শূন্যরেখা বরাবর যেকোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে হাই-স্পিড বোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজনের পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক দুটি সেকশনের কিউআরএফ (Quick Reaction Force) ও এনটিএম ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ১৭ বিজিবির অধিনায়ক মোঃ শাহারিয়ার রাজিব বলেন, “দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইন অপচেষ্টা ১৭ বিজিবি কঠোরভাবে প্রতিহত করছে। পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
