
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক নামধারী স্বঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম জুলুকে বুধবার ( ৯ জুলাই) আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত হত্যা মামলাসহ অন্তত ২২টিরও বেশি মামলার পলাতক আসামি জুলুকে রাজশাহীর বাসার রোড এলাকায় জুলুর দুই ভাতিজার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।
গত ২ জুলাই দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়া ও খুলিপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানে নজরুল ইসলাম জুলুর বাড়ি ঘিরে রেখে তল্লাশি চালিয়ে নজরুল ইসলাম জুলু , তার ছেলে জিম ইসলাম (২৫) ও সহযোগী মো. মুন্না (২৩) কে আটক করে সেনাবাহিনী।
পুলিশের সিডিএমএস তালিকা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে ১৫টি মামলা রয়েছে। তবে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ২২টিরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, হত্যা চেষ্টা, অবৈধ অস্ত্র বহন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ।
বিশেষভাবে আলোচিত মামলাটি হলো ৫ আগস্ট ঢাকার ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলা, যার চার্জশিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম রয়েছে বলেও উচ্চপদস্থ একটি সূত্র জানিয়েছে।
অভিযানের আগের দিন, রাজশাহীর বাসার রোড এলাকায় জুলুর দুই ভাতিজার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সিয়াম ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ঘনিষ্ঠ মহলের ছত্রচ্ছায়ায় জুলু রাজশাহীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে প্রেসক্লাব দখল করে একে নির্যাতনকেন্দ্রে রূপান্তর করেন। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, যৌন হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতন ছিল তার চক্রের নৈমিত্তিক কাজ। তার ছেলে, ভাতিজা ও আত্মীয়রাও এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
অভিযান শেষে সেনাবাহিনী জুলু ও অন্যান্য আটককৃতদের বোয়ালিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করে এবং অস্ত্র উদ্ধারে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে জুলু-সহ তিনজনকে একদিন করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, “জুলু সাংবাদিকতা নয়, ভয় ও নির্যাতনের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। আজ সে আইনের হাতে ধরা পড়েছে, এটাই জনতার বিজয়।
