আজ- মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা প্রকৌশলের স্কুল অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ তছরুপের অভিযোগ

by Prokash Kal
২৩৭ views

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার বড়গাছী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সীমানা প্রাচীন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মেরামত ও পূর্ণবাসন প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ১৬৬.৮৮ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ + ২০ লক্ষ টাকা। কিন্তু চলমান কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কার্যাদেশ বহির্ভূত, সিডিউলে প্রাক্কলন ব্যায় মাটি খননের হিসেব পুরোটাই ফাঁকি,,কারন প্রাচীর পাশে কোন ড্রেন নেই। এছাড়াও স্কুল ভবনের মেরামত ও ঘর নির্মানের ওয়ার্ক অডার ও সিডিউলে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলী, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, ও ঠিকাদার মিলেমিশে এমন অপকর্ম করছে বলে তাদের অভিযোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খেলার মাঠের চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কার্যাদেশ অমান্য করে অন্যের জায়গায় সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। এতে করে আশপাশের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করলে সীমানা প্রাচীরের কিছুটা অংশ ভেঙে চলাচলের রাস্তা করে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী জানান, প্রতিষ্ঠানের মাঠ সংলগ্ন আন্যর জমিতে ৩৫ ফি সিমানা প্রাচীর তোলা হয়েছে শুধু একজন ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এমন অপকর্ম করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল ভোলাহাটের দায়িত্বে থাকা সাইট ইন্জিনিয়ার ইমরান আলী ও স্কুল প্রধান । এ বিষয়ে বড়গাছী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নানা রকম তালবাহানা করেন। তিনি বলেন,মাঠ সংলগ্ন ক্লাবের সঙ্গে জমি বিনিময় করতে চেয়েছিলাম। প্রতিষ্ঠানের জমি ক্লাবে দিয়ে তাদের কিছু জমি প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। পরে পাশের আরেকজনের জমি বিনিময় করা হয়েছে। তাকে প্রতিষ্ঠানের কিছু জমি দিয়ে দেওয়া হয়েছে আর তার কাছ থেকে কিছু নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ঐ জমির মালিকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে চুক্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের জমি অন্য কাউকে দিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন করতেই “ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব” বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দীন বলেন, আমি শুনেছি প্রতিষ্ঠানের জায়গাতেই সীমানা প্রাচীর দেয়ার কথা। কিন্তু মাঠ বাদেও আন্য ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি ঘিরে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কারো সাথে পরামর্শ করেননি প্রধান শিক্ষক। তবে সিডিউল দেখলে সঠিকভাবে বলা যাবে। তবে সরকারি বরাদ্দের টাকায় অন্যর জমি ঘিরে দেওয়া বা জনগনের চলাচল বন্ধ করার কোন নিয়ম নেই বলে আমি জানি,এর একটা সুরাহা হওয়া দরকার বলে জানান।

এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী রনি বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। সিডিউলে জায়গা সেভাবে নির্ধারিত থাকে না। শুধু পরিমান উল্লেখ থাকে। সেজন্য সাইড প্ল্যান সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের জায়গা কিনা জানা নেই। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেখিয়ে দেওয়া জায়গাতেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যের জায়গা ঘেরা হয়ে থাকলে তার দায় আমাদের না। কার্যাদেশ বা সাইট প্ল্যানের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে “১০ মিনিট পরে ফোন দিচ্ছি” বলে মোবাইল কেটে দেন। নীর্বাহী প্রকৌশলী জানতেন না অবহিতের পরে তিনি কাজ বন্ধ করেছিলেন, পরে তিনিও জানান ভুল যা হইছে আর ভুল করবনা রাস্তা খুলে দেওয়া হবে, বাকী গ্রেড বিম সহ ৪ টা পিলার দেওয়া প্রায় ৩০ ফিট ওয়াল অপসারণ করবেন কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন একটু সময় দেন, সব তুলে নেওয়া হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল সার্কেল রাজশাহী তত্বাবধায়ক প্রকৌশলি তারেক আনোয়ার জাহেদী অফিসে তিনাকে না পাওয়ায় মুঠো ফোনে কথা হলে ১ দিন পর খোজ নিয়ে বলেন মূলত বিষয়টা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দেখিয়ে দেওয়া জায়গাতেই সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। মূলত তিনি আমাদের মিসগাইড করেছেন। তবে সিডিউল বহির্ভূত যে কাজ হয়েছে তা ভেঙে ফেলা হবে। তবে একটু দেরি হবে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী

পুবালী মার্কেট শিরোইল কাঁচা বাজার রাজশাহী

মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬

মেইল : info@prokashkal.com

© ২০২৪ প্রকাশকাল সর্বসত্বাধিকার সংরক্ষিত