
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংস্থাটির ৯ নির্বাহী প্রকৌশলীকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালককে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয় দুদক। চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তলব করা কর্মকর্তারা হলেন—নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার, এটিএম রফিকুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলি।
দুদকের চিঠি অনুযায়ী, নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার ও এটিএম রফিকুল ইসলামকে ১২ আগস্ট এবং রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলিকে ১৩ আগস্ট হাজির হতে বলা হয়েছে।
বিএমডিএ সূত্রের দাবি, তলব করা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে সানজিদা খানম মলিসহ তিন কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকলেও তাঁদের চলতি দায়িত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা খানম মলির বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির দুদকের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী ডা. আবুল কাশেম বলেন, “বিষয়টি আমি তাঁদের মুখ থেকেই শুনেছি। তাঁরা দুদকের চিঠি পেয়েছেন। দুদক তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট তলব করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। কোন অভিযোগ বা কী কারণে তাঁদের তলব করা হয়েছে, এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।”
দুদকের অনুসন্ধান শেষ হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
