
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কর্ণহার, কাশিয়াডাঙ্গা ও মতিহার থানা পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও ফেয়ার ডিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে তিনজন মাদক ব্যবসায়ী ও একজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ অর্থও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডিবি পুলিশ রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর মোড়ে অভিযান চালিয়ে বহরুমপুর (অচিনতলা) গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মনিরুজ্জামানকে (৬৬) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৩২০ টাকা জব্দ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
একই দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কর্ণহার থানা পুলিশ ধর্মহাটা ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের আতারুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল রানাকে (৩১) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে সাতটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় মাদকদ্রব্য আইনে তিনটি ও রাজশাহী মহানগর আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এদিকে, রাত সোয়া ৯টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ কাঠালবাড়িয়া এলাকার হাটুভাঙার মোড়সংলগ্ন রফিকুল ইসলাম ওরফে রাজুর (৪৪) বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় কাশিয়াডাঙ্গা থানার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আবু সাঈদকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা এক বোতল ফেয়ার ডিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক রফিকুল পালিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পলাতক রফিকুল ও গ্রেপ্তার সাঈদ দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর রাত পৌনে ২টার দিকে মতিহার থানা পুলিশ কাজলা বিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. নাদিম মোস্তফাকে (৩১) গ্রেপ্তার করে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
