
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর একটি ও বগুড়ার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা দুটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সাহেববাজারের ‘আশা জুয়েলারি স্টোরে’ এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে স্বর্ণের গহনা কেনার কথা বলেন। তিনি একটি নাকফুল ৭০০ টাকায় কেনেন এবং আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরে নেওয়ার কথা জানান।
এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি চেইনটি নিতে দোকানে আসেন। দোকানে চেইন না থাকায় পাশের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটির তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় ওই ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করতে পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। পরে দোকানে ফিরে তিনি ওই ব্যক্তিকে আর পাননি।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএমের নির্দেশনায় বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা টিম ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকা থেকে মামলার আসামি মো. রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল জানান, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণের চেইনটি তিনি খিলক্ষেতের ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক মো. রোমানের কাছে বিক্রি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর আশা জুয়েলারি স্টোর থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকেও জাল নোট দিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার একটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেন রিয়াজুল। ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ ছাড়া রিয়াজুলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ঢাকার খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
