নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, যৌতুক দাবি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তাদের দাবি, মামলা হওয়ার পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগরের একটি স্থানীয় পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আব্দুল হাকিম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. এনামুল হক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী নূরজাহান সুলতানা রেনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তার দাবি, প্রায় ১৪০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এক কোটি টাকা যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক সাতজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর কাজলা অক্ট্রয় মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাটির প্রতিবাদ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই মতিহার থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা (নং-১৪) দায়ের করা হয়। তবে মামলা দায়েরের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, “মামলা হয়েছে, থানা ও আদালত বিষয়টি দেখবে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকার বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরজুন বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছেন। বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লিড নিউজ
প্রকাশকাল ড্রেস্ক:
প্রায় ১ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেছে বাংলাদেশ। মূল সিরিজে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম দিনের প্রথম সেশন শেষেই ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৪৫ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করেছে বাংলাদেশ। ২৬ বলে ১৬ রানে অপরাজিত আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর সৌম্য সরকার ১৩ বলে ১০ রানে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৭ রানের মাথায় ফিরে যান ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলা চালিয়ে গেলেও থেমেছেন ৪৭ বলে ৩১ রানে।
মিডল অর্ডারে তিন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ধরিগতির ব্যাটিংয়ে ৫৯ বলে ১৬ রান করে বিদায় নেন মুমিনুল। মুশফিক তো ৮ বল খেলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
দল যখন ঘোর বিপদে তখন তরুণ অমিত হাসানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন শান্ত। দুজন মিলে কাটিয়ে দিয়েছিলেন প্রথম সেশনের বাকি অংশ। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরতেই ভাঙে সেই প্রতিরোধ। ৫৩ বলে ৩৭ রানে ফেরেন শান্ত।
এরপর অমিত হাসানও বেশি সময় টিকতে পারেননি। ৬১ বলে ১৫ রান করে আউট হন তরুণ এই ব্যাটার।
প্রকাশকাল ড্রেস্ক:
স্বর্ণের সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। এবার ভরিতে ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে সবশেষ গত ২৮ জুলাই সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫৯ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৩১ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৩০ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
এদিকে, ভরিতে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪৮ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৯ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
প্রকাশকাল ড্রেস্ক:
বর্ষার মেঘ, বৃষ্টির সুর আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক। যে ঋতুকে তিনি তার অসংখ্য কবিতা, গান ও সাহিত্যে অমর করে রেখেছেন, সেই বর্ষারই এক দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছিলেন বিশ্বকবি। আজ ৬ আগস্ট, ২২ শ্রাবণ। বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মনীষীর ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী।
১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ (৭ আগস্ট ১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তবে মৃত্যুর আট দশকেরও বেশি সময় পরও তার সাহিত্য, দর্শন, সংগীত ও মানবিক চেতনা সমানভাবে আলোকিত করে চলেছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে এবং বিশ্বসংস্কৃতিকে।
মাত্র আট বছর বয়সেই লেখালেখির সূচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এরপর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র, শিশুসাহিত্য ও গানের অমূল্য ভাণ্ডারে। দুই হাজারেরও বেশি গান রচনা করে তিনি সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য সংগীতধারা—রবীন্দ্রসংগীত, যা আজও বাঙালির জীবন, সংস্কৃতি ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শুধু সাহিত্য নয়, শিক্ষাচিন্তা, সমাজসংস্কার ও মানবকল্যাণেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পথিকৃৎ। শিক্ষাকে প্রকৃতি ও মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্ন থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিনিকেতন, যা পরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কৃষিঋণ ব্যবস্থা এবং পল্লি উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে এক নতুন মর্যাদা লাভ করে।
মানবতা ও ন্যায়ের প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ কখনো আপস করেননি। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে মানবিক প্রতিবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (৭ মে ১৮৬১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর খ্যাতনামা ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা সুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ১৪তম। সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ পরিবেশে বেড়ে ওঠা রবীন্দ্রনাথ পরবর্তীকালে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার বুকে নৌভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে গভীরভাবে অনুভব করেন। সেই অভিজ্ঞতার ছাপ তাঁর অসংখ্য সাহিত্যকর্মে অমর হয়ে আছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও রবীন্দ্রনাথের গান ছিল সাহস, আশা ও প্রেরণার উৎস। তার রচিত আমার সোনার বাংলা আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। একইভাবে ভারতের জাতীয় সংগীত জন গণ মন-ও তারই সৃষ্টি। বিশ্বের ইতিহাসে দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অনন্য সম্মানের অধিকারী।
প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, সংগীতানুষ্ঠান ও নানা আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গীতিনাট্য শ্যামা মঞ্চস্থ করবে ছায়ানট। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন কবি নন; তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক। সময়ের সীমানা পেরিয়ে তার সৃষ্টি আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, আর তাই ২২ শ্রাবণ শুধু একজন কবির প্রয়াণের দিন নয়, তার অনন্ত উত্তরাধিকারের সামনে শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করারও দিন।
শহীদ আঞ্জুমান সাকিবের পরিবারের পাশে আরএমপি, আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তার আশ্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আঞ্জুমান সাকিবের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নিতে বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজশাহীর আলুপট্টি এলাকায় তাদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
সাক্ষাৎকালে পুলিশ কমিশনার শহীদ সাকিবের বাবা-মায়ের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী সব আইনগত প্রক্রিয়ায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি পরিবারের বসতভিটা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলমান বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে শোনেন। বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তিতে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনারের এই সৌজন্য সাক্ষাতে শহীদ আঞ্জুমান সাকিবের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) নাসিদ ফরহাদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মোসা. আরজিনা খাতুন, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নোমান এবং বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাছুমা মুস্তারী।
নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী:
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, নেসকো (নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি) কেন, কিছুই রাজশাহী থেকে যাবে না। যারা চাকরি করে, কিছু কিছু হাসিনা ফ্যাসিস্টদের দালাল আছে। তারা এটা নিয়ে একটা ষড়যন্ত্র করত। আর কে কি বলল, কোন কন্টাক্টটা, যে কোথায় যাবে নো দিস ইজ রাজশাহী। রাজশাহীর প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতে থাকবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে কেবল মেয়র হয়েছি, কর্নেল ওলি যোগাযোগ মন্ত্রী। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল হেডকোয়ার্টার চট্টগ্রামে নিয়ে যাবেন। নো ফাস্ট মাই রাজশাহী। আমি অনশন করেছি, রানিং মেয়র গভমেন্টে থাকা অবস্থায়। মিছিল করেছি, মিটিং করেছি। আমি জানি ওলি অনেক শক্তিশালী। আমি মাথা নামাইনি, বলেছিলাম মরে পড়ে থাকবো গেটের সামনে। তবুও পশ্চিম অঞ্চল রেল যাবে না। আজও যায়নি। নেসকো কেন, কিছুই রাজশাহী থেকে যাবে না। রাজশাহী মাই ফাস্ট। আমার কাছে মন্ত্রী, এমপি, মেয়র বড় জিনিস নয়। এই মাটিতে আমার জন্ম, এই মাটিতে আমার মৃত্যু। কোনো ভয় পাওয়ার কিছু নাই।
তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের সন্তানদের প্রতি সমবেদনা এবং আহত আমার স্নেহের ছোট ভাইয়েরা সারাদেশে তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। বীররা যারা কালো পিস ঢালা রাজপথে হাসি মুখে বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরে নিয়েছেন; সেই শহীদদের ও জুলাই যোদ্ধাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভূমিনন্ত্রী বলেন, এ দেশ আমাদের সবার, যা হয়েছে। আর প্রতিহিংসা নয়, কোনো আগুন নয়, ভাঙচুর নয়, কোনো কিছু না সবাইকে মিলে বাস্তবে দেশকে বাঁচাতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আর সেই সঙ্গে আমাদের দেশপ্রেম থাকতে হবে। আর এমন কিছু যেন আমরা না করি। কোনো অপশক্তির যেন সুযোগ না হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আরএমপির শ্রদ্ধা নিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
বুধবার সকাল ৯টায় নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আরএমপির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আরএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল ৯টায় রাজশাহী মহানগরীর সিএন্ডবি মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মোঃ মাইনুল হকসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও জুলাই যোদ্ধাগণ, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অদম্য লড়াইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদ পরিবার ও আহতদের সার্বিক কল্যাণে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে কাজ করছে। শহীদ পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা সুখী, সমৃদ্ধি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে শহীদ হয়েছিল, সেই সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সেখানে উপস্থিত জুলাই শহীদ শাকিব আনজুমের বাবা মাইনুল হক বলেন, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। যারা আমার সন্তানকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমার মতো আর কাউকে যেন সন্তান হারাতে না হয়।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে রয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবার ও আহতদের সব সময় খোঁজখবর নেন ও পাশে আছেন। বিগত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদেরও খোঁজখবর রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরাও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে আছি।
এদিকে সকাল থেকেই জুলাই শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে উপস্থিত হন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। তারা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধায় জুলাই গণঅভ্যুত্থাণে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (রামেবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় (ডিসিইসি ভবন) এবং রাজশাহীর সি অ্যান্ড বি মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহা. জাওয়াদুল হকের নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সি অ্যান্ড বি মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
কর্মসূচির শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের আত্মার মাগফিরাত ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচিতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনের দিন আজ জাদুঘর শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খোলা থাকবে; সবার জন্য উন্মুক্ত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে।
প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এই সরকারের অধীনেই জুলাইয়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে সেই গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর।
মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং নিহত ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই জাদুঘর।”
আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘বীরত্বগাথা’ ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাইয়ে নিহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাইয়ে নিহত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
