মোঃ শাহান আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মাসিক পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহ মখদুম ছাত্রাবাসের এক রাঁধুনিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উত্তেজিত স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম ফেরদৌস। তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাহ মখদুম ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্র। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত ওই ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী রাঁধুনি ফেরদৌসী বেগম ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পঞ্চাশোর্ধ্ব ফেরদৌসী বেগম দীর্ঘদিন ধরে শাহ মখদুম ছাত্রাবাসে রান্নার কাজ করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের খাবার রান্না ও পরিবেশন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কাছে গত আগস্ট মাসের পারিশ্রমিক পাওনা ছিল। চলতি মাসের ১১ তারিখে ওই পারিশ্রমিক পরিশোধ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে টাকা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে পাওনা পারিশ্রমিক চাইতে গেলে ফেরদৌসী বেগমের সঙ্গে শিক্ষার্থী ফেরদৌসের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফেরদৌসী। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তার পরনের শাড়ি খুলে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি আহত হন বলে স্বজনরা জানান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেরদৌসী বেগমের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন শাহ মখদুম ছাত্রাবাসের সামনে জড়ো হন। পরে শত শত মানুষ সড়কে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেরদৌসকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রাবাসের রাঁধুনির ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থী ফেরদৌসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
