নিজস্ব প্রতিবেদক:
মো. রাহাত নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও সে আর মাদরাসায় যায়নি। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী:
রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল হক মিলন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। মেধা, সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম ধারণ করে তাঁদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে রাজশাহীর সুনাম বাড়াচ্ছেন। ভবিষ্যতেও তাঁরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শিক্ষানগরী রাজশাহীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ নগরবাসীর গর্ব। এ প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজকে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মতিউর রহমান এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ করিম।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম আলী, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ, সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জুবাইদুর রহমান আল গালিবসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
রুয়েট প্রতিনিধি:
শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণার ক্ষেত্র ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য এক জায়গায় পাওয়া এবং পাঠদান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে ‘RUET Faculty Review’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আজহার আলী।
প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের কোর্স-সম্পর্কিত মতামতও প্রকাশ করতে পারবেন। উদ্যোক্তার লক্ষ্য, শিক্ষকদের একাডেমিক ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য সহজলভ্য করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিকল্পনায় সহায়তা করা।
প্ল্যাটফর্মটিতে রুয়েটের কোন শিক্ষক কোন দেশ থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করেছেন এবং বর্তমানে কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন, সে সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সম্ভাব্য বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারবেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের গবেষণার বিষয় অনুযায়ী রুয়েটের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের খুঁজে দেখতে পারবেন। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুবিধা সম্ভাব্য গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক খুঁজে পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে।
প্ল্যাটফর্মটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শিক্ষক রিভিউ। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষকদের কাছে পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বা পরামর্শ প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মটি তাঁদের মতামত জানানোর বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পাঠদানের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রশংসা করার পাশাপাশি গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে উন্নতির ক্ষেত্রগুলোও চিহ্নিত করতে পারবেন।
উদ্যোক্তার মতে, এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে এবং পাঠদানের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মূল লক্ষ্য শুধু শিক্ষকদের মূল্যায়ন নয়; বরং তাঁদের গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য এক জায়গায় এনে শিক্ষার্থীদের উপকৃত করা।
পরিচয় প্রকাশ না করে রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। ওয়েবসাইটে রিভিউদাতার নামের পরিবর্তে ‘Anonymous Student’ দেখানো হয়। তবে পরিচয় গোপন রাখার কারিগরি ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হয়নি। তাই এ ব্যবস্থাকে শতভাগ পরিচয়-অশনাক্তযোগ্যতার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা মোঃ আজহার আলী বলেন, “রুয়েটের শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য এক জায়গায় এনে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহের গবেষণাক্ষেত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষক খুঁজে পেতে পারবেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কেও ধারণা পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গঠনমূলক মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে পাঠদানের মান উন্নয়নেও প্ল্যাটফর্মটি ভূমিকা রাখতে পারে।”
প্রকল্পটির ডকুমেন্টেশন ও ডেটাবেসের কাঠামো সম্পর্কে জানতে GitHub-এ একটি প্রকাশ্য রিপোজিটরি রাখা হয়েছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ ওপেন-সোর্স প্রকল্প নয়; গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারিগরি বাস্তবায়ন প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ‘RUET Faculty Review’ রুয়েট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বা অনুমোদিত কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তৈরি একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল প্রকল্প। শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও অর্জনের তথ্য সহজলভ্য করা এবং শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই এর উদ্দেশ্য।
প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যাবে RUET Faculty Review-এর ওয়েবসাইটে(https://www.ruetfacultyreview.site) প্রকল্পের প্রকাশ্য ডকুমেন্টেশন ও ডেটাবেসের কাঠামো দেখা যাবে GitHub রিপোজিটরিতে ( https://github.com/Ajhar146/ruet-faculty-review-public.git) ।
রুয়েট প্রতিনিধি:
ফর্মুলা কার্ট নির্মাণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আরও বড় পরিসরে প্রকৌশল দক্ষতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম অ্যানেক্স রুয়েট’। প্রথমবারের মতো ফর্মুলা স্টুডেন্ট কার নির্মাণ করছে দলটি। ২০২৭ সালে চীনে অনুষ্ঠিতব্য ফর্মুলা স্টুডেন্ট চায়না (এফএসসি) প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন দলের সদস্যরা।
৪৫ সদস্যের দলটি ইতোমধ্যে গাড়ির প্রাথমিক নকশা, সিমুলেশন, চ্যাসিস নির্মাণ ও চাকা অ্যাসেম্বলির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে সাসপেনশন ও স্টিয়ারিং সিস্টেমসহ অন্যান্য যান্ত্রিক অংশের উন্নয়ন নিয়ে কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা রয়েছে টিম অ্যানেক্সের। ২০২৩ সালে ভারতের তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত ফর্মুলা কার্ট ডিজাইন কম্পিটিশনের সপ্তম আসরে অংশ নিয়ে বিজনেস টিম বিভাগে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে দলটি। ২০২৫ সালেও একটি পূর্ণাঙ্গ ফর্মুলা কার্ট নির্মাণ করেছিল তারা। তবে ভিসা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ২০২০ সালে ফর্মুলা স্টুডেন্ট চেক রিপাবলিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আরেকটি কার্ট তৈরি করলেও কোভিড পরিস্থিতির কারণে অংশগ্রহণে বাধা আসে। ২০১৯ সালে নাসা আয়োজিত নাসা হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জেও (এইচইআরসি) অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির।
পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ফর্মুলা স্টুডেন্ট কার নির্মাণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে সদস্যদের আটটি সাব-টিমে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাব-টিমগুলো হলো—টেকনিক্যাল, ডিজাইন, ইলেকট্রিক্যাল, বিজনেস, পিআর অ্যান্ড মিডিয়া, ম্যানুফ্যাকচারিং, লেজিসলেটিভ এবং কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স অ্যান্ড সেফটি। গাড়ির নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজগুলো এসব দলের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে টিম অ্যানেক্সের ক্যাপ্টেন ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নোমান জামান দিপু বলেন, “আমাদের ইতোমধ্যে প্রাথমিক ডিজাইন, সিমুলেশন এবং চ্যাসিসের ফেব্রিকেশন শেষ। এখন আমরা সাসপেনশন এবং স্টিয়ারিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছি। সঠিক সময়ের মধ্যে গাড়ির সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।”
গাড়িটির চ্যাসিস ও চাকা অ্যাসেম্বলির কাজ সম্পন্ন হলেও অন্যান্য যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নির্মাণ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কাজ শেষ করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী গাড়ি প্রস্তুত করাই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য।
প্রকল্পটির সার্বিক দিকনির্দেশনায় রয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদ হাসান খান তুষার, অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ও অধ্যাপক মো. ওয়াহেদুল ইসলামসহ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতির পাশাপাশি গাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা ও সরঞ্জাম সংগ্রহও দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব সহযোগিতা নিশ্চিত করে ফর্মুলা স্টুডেন্ট কার নির্মাণের মাধ্যমে নিজেদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও ব্যবহারিক প্রকৌশল দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চায় ‘টিম অ্যানেক্স রুয়েট’।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ আর্কসামিট-২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের ২০২১ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতার দুটি পৃথক ইভেন্টে অংশ নিয়ে রুয়েটের দুটি দল দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ আর্কসামিট-২০২৬-এর আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)। ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
নগরায়নের বিভিন্ন জটিল চ্যালেঞ্জের উদ্ভাবনী ও টেকসই সমাধান উপস্থাপন করে ‘আরবান হ্যাকাথন’ ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রুয়েটের তিন সদস্যের একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন দেওয়ান শাহরিয়ার পারভেজ সৌমিত, ইশরাক ওয়াসি খান ও রাহিদ বিন জাফর সামি।
অন্যদিকে, স্থাপত্য, নকশা ও নির্মিত পরিবেশবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে রুয়েটের আরেকটি দল। দলের সদস্যরা হলেন তাসমিয়া লাবণ্য, জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী মিম ও রামিশা মহসিন।
এ ছাড়া একই বর্ষের শিক্ষার্থী সোহান ফেরদৌস ‘ইম্প্রমটু পলিটিকো’ শীর্ষক পর্বে তাৎক্ষণিক বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশ আর্কসামিট-২০২৬-এ রুয়েটের শিক্ষার্থীদের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক জেড. এইচ. এম. মঞ্জুর মোর্শেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুস সালাম রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন মঙ্গলবার রাতে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ২০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ নিয়ে ভার্চুয়াল সভায় ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দলটি উপাচার্যকে কোনো কিছু না পড়েই একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকে মারধর করা হয়। পরে তাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাত শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রবর্তিত ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ২০১৯ থেকে ২০২১ সালে করা আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীকে এ স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
মনোনীত রুয়েটের সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০১৯ সালের জন্য তিনজন, ২০২০ সালের জন্য একজন এবং ২০২১ সালের জন্য তিনজন রয়েছেন।
২০১৯ সালের জন্য মনোনীত তিন শিক্ষার্থী হলেন—রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাবাসসুম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের মিফতাহুল মবিন চৌধুরী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মহিউদ্দিন আহমেদ।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না সুলতানা স্বর্ণা।
এ ছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত তিন শিক্ষার্থী হলেন—মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহিনুর আলম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মো. মাইনুল ইসলাম এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জাহিদ হাসান।
রুয়েটের সাত শিক্ষার্থীর এ অর্জনে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি রুয়েট পরিবারের পক্ষ থেকে মনোনীত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে ইংরেজিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার দক্ষতা বাড়াতে রাজশাহী কলেজে শুরু হচ্ছে ইংরেজি ভাষা কোর্সের ৭ম ব্যাচ। প্রজেক্ট হেডওয়ে ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহোযোগিতায় কোর্সটির আয়োজন করছে রাজশাহী কলেজ বিজনেস ক্লাব।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে কোর্সে ভর্তির নিবন্ধন কার্যক্রম। এতে রাজশাহী কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত চলমান শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, কোর্সটিতে ইংরেজি ভাষার মৌলিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবে ইংরেজিতে কথা বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা, ব্যাকরণ, শব্দভান্ডার, কথোপকথন, উপস্থাপনা এবং জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার অনুশীলন।
কোর্সটির প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন প্রজেক্ট হেডওয়ে ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাস্টার ট্রেইনার পল বিশ্বাস। ব্যবহারিক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানোর ওপর কোর্সটিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরসিবিসির মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রায়হান বলেন, “শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। চাকরির সাক্ষাৎকার থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, উপস্থাপনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিজের ভাবনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি জানলেও ইংরেজিতে কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভোগেন। সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিকভাবে ইংরেজি চর্চার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এদিকে কোর্সটিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরাও। কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান জুঁই বলেন, “ক্লাসে ইংরেজি পড়লেও সবার সামনে ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ খুব বেশি পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় জানা বিষয়ও বলতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়। এ ধরনের কোর্স নিয়মিত ইংরেজি চর্চার সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে চাকরির পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের জন্য এটি কাজে আসবে বলে মনে করি।”
এবারের ব্যাচে সর্বোচ্চ ১৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আসন পূর্ণ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “রাজশাহী কলেজ বিজনেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, জব ফেয়ার, চাকরির সুযোগ ও বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে। এসব কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা বুঝেছি, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগের দক্ষতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রয়োজন থেকেই আমরা ধারাবাহিকভাবে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স আয়োজন করে আসছি, এবার শুরু হচ্ছে এর ৭ম ব্যাচ।”
নিবন্ধনের জন্য রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে তিনটি বুথ রাখা হয়েছে। বুথগুলো হলো -পদ্ম পুকুরের পশ্চিম পাশে ও কলাভবনের পূর্ব পাশে, রসায়ন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের সামনে এবং শহীদ আলী রায়হান ভবনের সামনে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে এসব বুথে নিবন্ধন কার্যক্রম। কোর্সের বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং নিবন্ধন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বুথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত অনুশীলন ও ব্যবহারিক চর্চার মাধ্যমে এ কোর্স শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে নিজেদের দক্ষভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি কার্যকর একটি সুযোগ তৈরি করবে।
রুয়েট প্রতিনিধি:
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলের মসজিদে ইমাম নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। নিয়োগের আগে বাছাই ও পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৩০০ জন প্রার্থীকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখার পরও তাদের পরীক্ষা ছাড়াই একজনকে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোরআন তিলাওয়াত, তাজবিদ, নামাজসংক্রান্ত মাসআলা এবং দায়িত্ব পালনের নিয়মিততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রায় ৮০০-এর বেশি আবাসিক শিক্ষার্থীর এই হলে দীর্ঘ সময় স্থায়ী ইমাম না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে কোরআন তিলাওয়াতে দক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে নামাজ ও আজান পরিচালনা করতেন। প্রায় এক বছর ধরে এভাবে চলার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের কাছে একজন স্থায়ী ইমাম নিয়োগের দাবি জানান।
হলের শিক্ষার্থী সজিদ জানান, হলের তহবিলে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ফিও যুক্ত থাকায় ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে বলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়। পরে তারা বিষয়টি লিখিতভাবে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোবিউল ইসলাম সরকারকে জানান। শুরুতে কেন্দ্রীয় মসজিদ থাকায় আলাদা হল মসজিদের ইমাম প্রয়োজন নেই—এমন বক্তব্য দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে দুই থেকে তিন মাসেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারও উদ্যোগ নেন। এ সময় প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আবেদন করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নিয়ে ইমামের সম্মানী, থাকার ব্যবস্থা ও অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তারা।
পরবর্তীতে রুয়েটের পক্ষ থেকে তিনজন ইমাম ও দুজন মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৪০০টি আবেদন জমা পড়ে এবং প্রায় ৩০০ জনকে বাছাই করে পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য রাখা হয় বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। কিন্তু সেই পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই একজনকে হল মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে তাদের জানানো হয়, নিয়োগের বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় হয়েছে এবং হল তহবিল থেকেই ইমামের বেতন ও আবাসনের ব্যয় বহন করা হবে। এতে নির্ধারিত নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই ইমামের কোরআন তিলাওয়াত, তাজবিদ ও নামাজসংক্রান্ত মাসআলা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তি তৈরি হয়। পরে হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাজশাহী তালীমুদ্দীন একাডেমির দুই শিক্ষককে দিয়ে তার দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান। শিক্ষার্থীদের কাছে থাকা ওই মূল্যায়নপত্র অনুযায়ী, মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি ৩১ নম্বর পেয়েছেন—কিরাতে ২৫-এর মধ্যে ১০, তাজবিদে ২৫-এর মধ্যে ৫ এবং মাসআলায় ৫০-এর মধ্যে ১৬।
এই মূল্যায়নের কপি শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের কাছে প্রিন্ট ও সফট কপি আকারে জমা দিয়েছেন বলে জানান। তাদের প্রশ্ন, নিয়োগের আগে যদি যোগ্যতা যাচাই করা হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে এ ধরনের মূল্যায়নের প্রয়োজন হলো কেন এবং বাছাই তালিকায় থাকা প্রায় ৩০০ প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার আগেই কীভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হলো।
এ ছাড়া ইমামের দায়িত্ব পালনের নিয়মিততা নিয়েও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এমটিই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকবাল জানান, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহের পর ওই ইমাম নিয়মিত আজান দিতেন না এবং অনেক সময় শুধু নামাজের সময় উপস্থিত থাকতেন। ফলে শিক্ষার্থীদেরই আজান দিতে হয়েছে বলে তার দাবি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই অনুপস্থিত থাকা এবং শুক্রবার-শনিবার মিলিয়ে দুই দিনের ছুটির ঘটনাও ঘটেছে।
ছুটির সময় একজন শিক্ষার্থীর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ইমামের দায়িত্ব পালনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন ইকবাল। তার দাবি, প্রথম দিকে শিক্ষার্থীর সম্মতি থাকলেও পরবর্তী সময়ে তার অজ্ঞাতসারে এমনটি করা হয়।
ইমামের আবাসন ও খাবারের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। সজিদের দাবি, ইমামের ছেলেকেও হলের একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং শুরু থেকেই হলের ডাইনিংয়ে বিনামূল্যে খাবারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীরা নিজেদের অর্থে ইমামের ব্যয় বহনের প্রস্তাব দেওয়ার সময় শুধু ইমামের থাকার জন্য কক্ষ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
ইমামের হিফজ ও ক্বারিয়ানা-সংক্রান্ত সনদ ও যোগ্যতা নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর ক্বারিয়ানা কোর্স সম্পন্ন করার জন্য প্রায় এক মাসের ছুটি চাওয়ার বিষয়টি তার নিয়োগের আগে যোগ্যতা যাচাই হয়েছিল কি না, সে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুই দিন ধরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও দ্বিতীয় দিন তাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজ জানান, গত পাঁচ-ছয় মাসে তারা দুইবার উপাচার্য, দুইবার ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক এবং পাঁচ-ছয়বার হল প্রভোস্টের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইমামের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে শিক্ষার্থীদের মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন-আল-আজাদুল ইসলাম বলেন, আগে যাকে হল মসজিদের ইমামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি বর্তমানে আর হল মসজিদে ইমামের দায়িত্বে নেই। তাকে আর ইমাম হিসেবে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ভবিষ্যতে ইমাম নিয়োগে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞান ও সনদ যথাযথভাবে যাচাই, দায়িত্ব পালনের অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) অনুদানে পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রচার করার অভিযোগ তুলেছেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, অ্যাম্বুলেন্সটি সংগ্রহের উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে তার যোগাযোগের প্রমাণ রয়েছে।
সালাউদ্দিন আম্মার এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, গত ৬ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (জকসু) একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার সময় তিনি চিকিৎসক এসএম খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ কিছু মেডিকেল সরঞ্জাম দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তার দাবি, ১৭ আগস্ট এসএম খালিদুজ্জামান তাকে জানান, তার স্ত্রী লতিফা রশিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের অনুমোদনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এরপর নির্ধারিত তারিখে রাকসুর জিএস হিসেবে তিনি আবেদনপত্রও দেন।
পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ২১ আগস্ট ঢাকায় এসএম খালিদুজ্জামানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখান থেকেই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি অ্যাম্বুলেন্স পেতে যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, একই দিন রাকসুর গ্রুপে বিষয়টি জানালেও রাকসুর ভিপি ছাড়া অন্য কোনো সদস্যের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের উৎস বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি। বিষয়টি আপাতত কাউকে না জানানোর জন্য ভিপিকেও অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তবে ৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সংগঠনটির সভাপতি অ্যাম্বুলেন্সটি ‘ম্যানেজ’ করেছেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান সালাউদ্দিন আম্মার।
তার ভাষ্য, “আপত্তি করতাম না বা চুপচাপ থাকতাম যদি এটা বলা হতো রাকসুর পক্ষ থেকে উপহার। কিন্তু এটাতে লিখেছে শিবিরের পক্ষ থেকে উপহার।”
অ্যাম্বুলেন্সটি সংগ্রহে আগে কে যোগাযোগ করেছিলেন এ বিষয়ে শিবির, জামায়াত ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার আগে কেউ এসএম খালিদুজ্জামানের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করেছে এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে দেবেন।
সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “এই অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত একটা ফোনকল, একটা কনভার্সেশন দেখাক। ব্যাকডেটে একটা অ্যাপ্লিকেশনে সিগনেচার করে নিতে পারে সর্বোচ্চ। তবে আমার কাছে রিয়েল টাইম কনভার্সেশন আছে।”
তবে বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্কে যেতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পেয়েছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সালাউদ্দিন আম্মার আরও জানান, পরবর্তীতে তিনি আবারও একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ায় ওই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তার দাবি, প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রাজিব আলী
পুবালী মার্কেট শিরোইল কাঁচা বাজার রাজশাহী
মোবাইল : ০১৭১২-৪৫৪৬৮০, ০১৭৮৯৩৪৫১৯৬
মেইল : info@prokashkal.com