নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
সাধারণ সভা আহ্বান ও দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের একদল শ্রমিক। একই সঙ্গে বর্তমান কমিটি থেকে আওয়ামী লীগের ‘দোসরদের’ অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নগরীর রেলগেট ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির পরিবহন শ্রমিক অংশ নেন। এ সময় ‘কমিটি বাতিল কর’, ‘অবিলম্বে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের পর শ্রমিক নামধারী কিছু ব্যক্তি ইউনিয়নের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের পর থেকে ইউনিয়নে কোনো সাধারণ সভা কিংবা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাধারণ সভা ও নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের সদস্যদের মেয়েদের বিবাহভাতা, ছেলেদের শিক্ষা ভাতা ও মৃতকালীন অনুদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সাধারণ সভা আহ্বান করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাইনুল হক মানা।
তিনি বলেন, ‘আজ যারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন, তারা বর্তমান কমিটির অনুমোদনের সময় স্বাক্ষরকারী ছিলেন। হঠাৎ করে তাদের এ ধরনের আন্দোলনের কারণ আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।’
মাইনুল হক মানা দাবি করেন, বর্তমান কমিটি বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক স্বীকৃত এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরসহ গত ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফল ২৭ মার্চ শ্রম দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের অনুমোদিত ১৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে। কমিটিটি বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের স্মারক অনুযায়ী ‘রাজ-১৬০৭’ নিবন্ধিত।
এদিকে নির্বাচন ও কমিটির বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে শ্রমিক ইউনিয়নে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত বিষয়টির সমাধান দাবি করেছেন শ্রমিকরা।
Tag:
