
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক সারাশি অভিযানে প্রায় ২০ লাখ টাকার নিষিদ্ধ ‘চায়না দোয়ার’ জাল ও জাল তৈরির সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাল উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে দায়ী ব্যক্তিদের নিকট থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ডেমরা খেলার মাঠে প্রায় একশ বস্তা নিষিদ্ধ জাল ও বিপুল পরিমাণ জাল তৈরির উপকরণ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সানাউল মোর্শেদ। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সী, ফরিদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ শাহানুর রহমান, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির মোঃ জমির উদ্দিন, পেশকার মোঃ মেহেদী হাসান এবং ডেমরা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শম্পা সাহা।
একাধিক স্থানে অভিযান
অভিযানের শুরুতেই উপজেলার ডেমরা পূর্ব পাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দোয়ার’ জাল ও জাল তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। এরপর একই গ্রামের সেলিম প্রামাণিক, বাবু প্রামাণিক ও মেরাজ প্রামাণিকের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চায়না জাল ও উৎপাদন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ডেমরা বাজারের একটি কারখানা থেকেও চায়না জাল তৈরির সুতা, পাইপ, রড ও অন্যান্য উপকরণ জব্দ করা হয়।
চায়না জাল সিন্ডিকেটের সন্ধান
বিকেলে পার্শ্ববর্তী হলদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চায়না দোয়ার জাল উৎপাদন সিন্ডিকেটের মূল হোতা পরিতোষ হলদারের বাড়িতে গেলে চমকে ওঠে উপস্থিত প্রশাসন ও এলাকাবাসী। বিশাল আকারের একটি কারখানায় চায়না দোয়ার জাল তৈরির মেশিনারিজ, কাঁচামাল ও বিপুল পরিমাণ প্রস্তুত জাল পাওয়া যায়।
এছাড়াও তার ভাগিনার তালাবদ্ধ ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আরও একটি কারখানা আবিষ্কৃত হয়। একইভাবে হরিপদ হালদারের বাড়িতেও চায়না জাল তৈরির দৃশ্য চোখে পড়ে।
শাস্তি ও ধ্বংস কার্যক্রম
নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিপণনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিতোষ হালদারকে ২ লাখ টাকা এবং তার ম্যানেজার মোশাররফকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে উদ্ধারকৃত শতাধিক বস্তা চায়না জাল ও সরঞ্জাম ট্রাকে করে এনে ডেমরা খেলার মাঠে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এই জাল ও সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
এই অভিযানে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
