আজ- বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে স্বর্ণের দোকানে চুরি হওয়া আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ নিয়ে চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে মোট ৩১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা ও স্বর্ণ-রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৯ জুন ভোরে সাহেববাজারের কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোরের দল দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসিয়ে জটলা তৈরি করে। পরে কৌশলে দোকানে প্রবেশ করে পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে সিন্দুক থেকে স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।

দোকানের মালিক তুর্য সরকার এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য আরএমপির ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের তত্ত্বাবধানে ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চোরের দলটি বেশ কৌশলী। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করত না। এমন ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত, যারা তাদের পরিচিত নন এবং তাঁদের নামে সিম নিবন্ধনের বিষয়টিও জানতেন না। কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে না থেকে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করত তারা।

পুলিশের ভাষ্য, বড় ধরনের চুরি করার আগে চক্রটি তিন থেকে চার মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করত। কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা এলাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার কথা বলে দোকান ও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনার লবণচড়া থানা এলাকা থেকে বাগেরহাটের মোংলার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন (৬২), ইউনুস (৪৫), উজ্জল (৩৭), রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), আবু তালেব (৪৫) ও কালাম শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর আরাফাত হাসান জুয়েলার্স নামের দোকান থেকে ২৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এরপর গ্রেপ্তার উজ্জলসহ অন্য আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার স্বর্ণপট্টি থেকে আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চুরির সঙ্গে জড়িত সাতজন এবং চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: