
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর আলুপট্টি পদ্মা কনভেনশন হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সমিতির নির্বাচনী সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩৪৫ ভোটের মধ্যে ২২০ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ১০টি ভোট বাতিল হয়। পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। ভোট গণনা শেষে নতুন কমিটির নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন- আল আমিন সরকার টিটু। সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে জয়ী হয়েছেন আসিফ আলী মিঠু, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আব্দুর রউফ দিলিপ এবং সড়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাহিদ হাসান সুজন। এছাড়াও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আজিজুল রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হেলাল হোসেন, দফতর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক কোরবান আলী এবং অর্থ সম্পাদক পদে মোশাদ্দিকুর রহমান সাকিল নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশনার গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন,“এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট। সমিতির সদস্যরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর। এই নির্বাচন অন্যদের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন,“নতুন কমিটির প্রধান লক্ষ্য হলো জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং যানবাহন শিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।”
সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী আব্দুর রউফ দিলিপ বলেন,“নির্বাচনে আমার প্রতি যে আস্থা ও সমর্থন ভোটাররা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। নতুন কমিটি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে জেলার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শিল্পকে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ করবে।”সভাপতি আল আমিন সরকার টিটুও নির্বাচনী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “সমিতির উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।”
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. এরশাদ আলী এশা। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার রোকনুজ্জামান আলম। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলাম মোস্তফা মামুন ও ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন। প্রধান প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক এমএ মালেক এবং নির্বাচনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নির্বাচন সচিব মাসুদুর রহমান লিটন।
সমিতির নতুন নেতৃত্ব গঠনের মাধ্যমে মালিকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
