আজ- , ,

কোনাবাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন

by Prokash Kal

 

প্রকাশকাল ডেস্ক:

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন তারেকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রাণনাশের হুমকি এবং ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওসির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. সোহেলের বিরুদ্ধেও হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন এক তরুণী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদর দপ্তর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে ব্যক্তিগত একটি আইনি সহায়তার প্রয়োজনে কাশিমপুর থানায় যান ওই নারী। সেখানে তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইফতেখার হোসেন তারেকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ওই নারীর অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে ইফতেখার হোসেন তারেক নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বন্ধু সোহেলের বাসায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওই কর্মকর্তা পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে জানিয়ে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় ওসির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. সোহেল তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। এমনকি ওসির পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটূক্তি করা হয় বলে দাবি করেছেন ওই নারী। একপর্যায়ে ওসি নিজেও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত আবেদনে ওই নারী দাবি করেন, চার দিন আগে তিনি গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওসি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহযোগী সোহেলসহ আরও একজনকে তাঁর বাসায় পাঠান। তাঁরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যান এবং ফোনে থাকা কল রেকর্ড, চ্যাটসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে ওই নারীর দাবি, এর আগেই কথোপকথনের কিছু সংবেদনশীল অডিও ক্লিপ, একটি ছবি এবং অন্য নারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা ওসির কিছু ব্যক্তিগত ছবি তিনি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীদের ভয়ে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আবেদনে একজন নাগরিক হিসেবে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন তারেক ও তাঁর সহযোগী মো. সোহেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই নারী।

Share this news as a Photo Card

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:
07 November 2026

কোনাবাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন

www.prokashkal.com |
/Prokashkal