আজ- রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী: এমপি মিলন

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে বিএনপি পরিবারের পাশে থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে পবার বড়গাছি কুঠিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। পবা উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান দেশকে আগ্রাসনের হাত থেকে উদ্ধার করে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে মুক্ত করেছিলেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “মুসলিম উম্মাহর একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে ওআইসিতে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল এবং তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া ইরান-ইরাক যুদ্ধ থামাতে বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেও তিনি সফল হয়েছিলেন।”

শহীদ জিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে যুগান্তকারী ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যখন তিনি জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রে তাঁকে হত্যা করা হয়। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি, কারণ জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া আজ অনেক বেশি শক্তিশালী।”

জিয়াউর রহমানের পর আপসহীন নেত্রী হিসেবে দেশবাসীর অধিকার রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে এমপি মিলন বলেন, “তিনি আজ জনগণের কাছে ‘দেশনেত্রী’ এবং বিশ্ববাসীর কাছে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।”

বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “জিয়া পরিবারের সুনিপুণ আদর্শের ধারাবাহিকতায় জনাব তারেক রহমান দেশের মানুষের কাছে ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি’ নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতির মাত্র ৩ মাস ৫ দিনের মাথায় তিনি প্রতিনিয়ত মানুষকে নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করছেন। তিনি তাঁর পিতার মতো একজন দেশপ্রেমিক কর্মী হিসেবে এবং মায়ের মতো নারীদের জাগরণ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর দেওয়া প্রতিটি ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালনের চেষ্টা করছেন।”

অতীতের শাসকদের সমালোচনা করে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, “অতীতের শাসকেরা কেবল লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন, জনগণের কল্যাণ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে তারা ভাবেননি। তবে বর্তমান নেতৃত্ব অন্যের সমালোচনা না করে কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে চায়।” ইতিমধ্যেই এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে জানিয়ে খুব দ্রুতই রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অসমাপ্ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি।

দেশের সার্বিক কল্যাণে বিএনপি পরিবারের পাশে থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পবা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলি হোসেন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম মাস্টার,আব্দুল মান্নান মুন্নাফ ও আব্দুল হালিম, দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বড়গাছি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সোহেল রানা, সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম, কাটাখালি পৌর বিএনপির আহবায়ক নাজমুল হক, হুজুরি পাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শাহাবুদ্দিন, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান,খরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মজিবুর রহমান, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তাইজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানা, সদস্য মাজদার রহমান, পবা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মুস্তাক আহমেদ ছোট, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিন, পবা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, নওহাটা পৌর অহবায়ক সোহেল রহমানসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: