আজ- মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবায় ঈদ উপহার পেল ৪ হাজার ৬২৫ পরিবার

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকায় ৪ হাজার ৬২৫টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই দিনব্যাপী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে সরকারের এই সহায়তা পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে নিম্নআয়ের মানুষের মুখে। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করা হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। সকাল থেকেই মাঠে উপকারভোগীদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজনের জন্য এই সহায়তা নিতে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়ান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন,“ঈদুল আযহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে সামনে রেখে যাতে কোনো অসহায় পরিবার খাদ্য সংকটে না পড়ে, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা নওহাটা পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে চাল বিতরণ সম্পন্ন করব। আমাদের লক্ষ্য সুবিধাভোগীদের মুখে আনন্দ ফিরিয়ে আনা।”

তিনি আরও জানান, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ভিজিএফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পবা জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. জামিনুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান, হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, পৌর কর নির্ধারক হাবিবুর রহমান, প্রধান সহকারী নূরুল ইসলামসহ পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পবা থানার এসআই তাজসেলেকার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।

চাল পেয়ে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। নওহাটা পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার প্রতিবন্ধী ইসমাইল গাজি দুই হাতে ভর করে চাল নিতে আসেন। তিনি বলেন,“আমি পঙ্গু এবং দুই হাতে ভর দিয়ে চলাফেরা করি। আমার পরিবারে কোনো কর্মক্ষম সদস্য নেই। প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে দিন কাটাতে হয়। আজ এই চাল পেয়ে খুব উপকার হলো। এতে আমাদের পরিবারের অনেক প্রয়োজন পূরণ হবে এবং ঈদটা কিছুটা ভালোভাবে কাটাতে পারব।”একইভাবে বসন্তপুর এলাকার আনজুয়ারা খাতুন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঈদের সময় পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এই চাল আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। সরকারের এই উদ্যোগে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ।”

একাধিক উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে অন্তত কয়েকদিনের খাদ্যচিন্তা দূর হয় এবং উৎসবটি কিছুটা স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব হয়। ঈদকে সামনে রেখে সরকারের এই উদ্যোগে নওহাটা পৌর এলাকার হাজারো পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: