আজ- শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদের প্রতিবাদে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এহ্সানুল কবীর টুকু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং একটি দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজশাহী নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এহ্সানুল কবীর টুকু, সভাপতি, ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপি, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উদ্দিন, সদস্য, রাজশাহী জেলা বিএনপি; আব্দুল মালেক, সাবেক আহ্বায়ক, গোদাগাড়ী থানা বিএনপি; মাহাবুবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, গোদাগাড়ী থানা বিএনপি এবং মো. হাবিবুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক, কাকনহাট পৌরসভা বিএনপি।

লিখিত বক্তব্যে এহ্সানুল কবীর টুকু বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই নিজ এলাকায় শিক্ষা, সমাজসেবা, মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাব ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করছে।

তিনি বলেন, ভাটাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ দখল করে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একইভাবে প্রেমতলী জসিমউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও অসত্য। তিনি জানান, ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁদের পরিবার জমি দান করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পরিচালনা কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে যে কেউ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রেমতলী সুকেশীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব তিনি বিধি অনুযায়ী পেয়েছেন। বিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো বিশেষ তহবিলই ছিল না, যা আত্মসাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন এবং সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অর্থের বিনিময়ে পুনর্বহাল করার অভিযোগও নাকচ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো এখতিয়ার বা সম্পৃক্ততা নেই।

হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান গৌরাঙ্গ বাড়ির সম্পত্তি দখল, বালুমহাল ও মসজিদের অর্থ আত্মসাতসহ তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, বড় আষাড়িয়াদহ ও মালিগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও অনুদানের বিষয়টি সরেজমিন অনুসন্ধান করলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে এহ্সানুল কবীর টুকু বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই তথ্য যাচাই করা উচিত। যাচাই-বাছাই ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে ব্যক্তি, পরিবার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মানহানি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশকারী অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান এবং সত্য উদঘাটনে সরেজমিন অনুসন্ধানের অনুরোধ করেন।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: