
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল।
সংগঠনের সদস্য সচিব মো. এমদাদুল হক লিমন এসব দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ), নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ও অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সচল করার পাশাপাশি বিশেষ করে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে ভেন্টিলেশন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া রোগীস্বার্থবিরোধী দালালচক্র, সিন্ডিকেট ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, রামেক হাসপাতালের মর্গে লাশ শনাক্ত করতে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা দাবির অভিযোগ করেছেন বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম সানি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মর্গে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা লাশ শনাক্ত করতে স্বজনদের কাছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারলে লাশ শনাক্ত করতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাহাবুবুল আলম সানি বলেন, স্বজনেরা প্রিয়জনকে হারিয়ে এমনিতেই শোক ও সংকটের মধ্যে থাকেন। এ অবস্থায় লাশ শনাক্ত করার মতো মানবিক ও মৌলিক সেবার ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহির আওতায় আনতে অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধিত ও অনুমোদিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে মো. এমদাদুল হক লিমন বলেন, এসব বিষয় সরাসরি জনস্বাস্থ্য, জনস্বার্থ ও মানুষের মৌলিক চিকিৎসার অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি হাসপাতালের মানসম্মত, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
