আজ- শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তারই চাচাতো মামা

by Prokash Kal
৩৯৪ views

শাহান আলী, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

গার্মেন্টস কর্মী মায়ের কাছে ঈদের খেলনার আবদার করেছিল ৬ বছরের ছোট্ট শিশু লামিয়া। কিন্তু সেই শিশুটিই পরে নিথর দেহে পাওয়া যায় নানার বাড়ির পাশে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী রুপার পরিত্যক্ত ভবনের একটি সেপটিক ট্যাংকে। ঘটনাস্থল থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব ফারুক হোসেনের সার্বিক নির্দেশনায় শাহজাদপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান এবং অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলীর তত্ত্বাবধানে শাহজাদপুর থানার একটি চৌকস টিম দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ শিশুটির চাচাতো ভাই জুবায়ের, খালাতো ভাই রিফাত এবং চাচাতো মামা আরাফাতকে আটক করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লামিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে তার আপন চাচাতো মামা আরাফাত।

মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের ছোট বিন্নাদাইর গ্রামে। শিশু লামিয়া ছিলেন ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের নাতনী এবং উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের নাজিম প্রামাণিকের মেয়ে। সে বিলকলমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বাবা-মা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে গার্মেন্টসে চাকরি করায় লামিয়া নানার বাড়িতেই থাকত।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরাফাত জানায়, সে পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ধূমপান করছিল। হঠাৎ ভাগ্নি লামিয়া তাকে ধূমপান করতে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি নানাকে বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে ভয় পেয়ে সে লামিয়ার মুখ ও নাক চেপে ধরে। ধীরে ধীরে লামিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর সে লামিয়াকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর বুঝতে পারে লামিয়া মারা গেছে। তখন সে প্রমাণ লোপাটের জন্য লামিয়ার হাত-পা বেঁধে মুখে কসটেপ লাগিয়ে মরদেহটি ওই পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে রাখে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লামিয়ার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: