আজ- শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা 

by Prokash Kal
৩২৬ views

 শাহান আলী, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের ছোট বিন্ন্যা দাইর গ্রামে ৬ বছরের এক শিশু লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে।

শিশু লামিয়া উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের নাজিম প্রামাণিকের মেয়ে ও ছোট বিন্ন্যাদাইর গ্রামের আব্দুর রশিদের নাতনি। সে বিলকলমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঈদ উপলক্ষে তাকে নানার বাড়িতে রেখে বাবা-মা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে গার্মেন্টসে কাজ করছিলেন। খেলনার আবদার, আর দেখা হলো না ছোট্ট লামিয়া ঈদে খেলনার আবদার করেছিল মায়ের কাছে। মায়ের কাছে ফোন করে বলেছিল, > “মা, আমার জন্য খেলনা আর নতুন জামা আনো।”

কিন্তু সেই চাওয়া আর পূরণ হলো না। নিষ্পাপ মেয়েটি ঘৃণ্য এক অপরাধের শিকার হয়ে প্রাণ হারায়।

নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশি অনুসন্ধানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একা ছিল লামিয়া। সন্ধ্যার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ৮টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং রাত ১১টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে শাহজাদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

(জিডি) আমলে নিয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী নিজেই পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অনেক খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশির পরে

রাত ২টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী রুপা বেগমের পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পাশে একটি জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ জাগে। পরে ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় লামিয়ার নিথর দেহ। তিন কিশোর আটক

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো: জুবায়ের (চাচাতো ভাই), রিফাত (খালাতো ভাই), আরাফাত (মামা)।

পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মায়ের কান্না: “ও তো শুধু খেলনা চেয়েছিল”

শিশু লামিয়ার মা মিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,ও তো শুধু ঈদের জামা আর খেলনা চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম ফিরেই আনবো।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম আলী বলেন,নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এই ঘটনা আমাদের সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দেয়। তাদের নিরাপদ রাখতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতাও এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: