
ফারিয়া জামান সুহানা:
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক চাপ, ক্যারিয়ার সংশয় এবং পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। আমাদের সমাজে ব্যর্থতা এখনও একটি বড় ধরনের কলঙ্ক হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে একজন তরুণ তার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ প্রায়ই পায় না। ঠিক এই সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “প্ল্যান বি”।
প্ল্যান বি-এর প্রতিষ্ঠাতা রাফাত আহমেদ একজন উদ্যমী এবং সমাজ-সচেতন কর্মী, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। ছাত্রজীবনেই রাফাত সমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন উদ্যেগের মাধ্যবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তাকে তরুণদের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।
এছাড়াও, তিনি VSO Bangladesh, SERAC Bangladesh, এবং Social Associated Programme -এর মতো আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাফাতের নেতৃত্বে প্ল্যান বি-এর যাত্রা শুরু হয় এমন একটি লক্ষ্য নিয়ে যা শুধু একটি সংস্থার গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি আন্দোলন, যা তরুণদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং জীবনের দ্বিতীয় সুযোগের প্রতীক হয়ে উঠতে চায়। প্ল্যান বি-এর কার্যক্রম প্ল্যান বি তরুণদের জন্য এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করছে, যা তাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।
১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও প্রচুর ভুল ধারণা ও লজ্জা কাজ করে। প্ল্যান বি এই ধারণাগুলো ভাঙতে এবং তরুণদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। ২৪/৭ হেল্পলাইন: তরুণদের যে কোনো সময় সহায়তা পেতে হেল্পলাইনের সুবিধা।
কাউন্সেলিং সেবা: মানসিক সমস্যার সমাধানে পেশাদার পরামর্শ। সচেতনতা ক্যাম্পেইন: মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এবং সচেতনতা তৈরি।
২. পারিবারিক সহায়তা সেবা পারিবারিক সমস্যা তরুণদের জীবনের বড় একটি চ্যালেঞ্জ। প্রজন্মের ব্যবধান বা পারিবারিক সংস্কৃতির বাধার কারণে অনেক তরুণ তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে পায় না।
কাউন্সেলিং সেশন: পরিবার এবং সন্তানদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি। অভিভাবকদের জন্য কর্মশালা: সন্তানদের সমস্যা বুঝতে এবং তাদের সহায়তা করতে শেখানো।
প্ল্যান বি-এর প্রতিষ্ঠাতা রাফাত আহমেদ মনে করেন, “ব্যর্থতা কোনো চূড়ান্ত অবস্থান নয়। বরং এটি জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ। প্ল্যান বি এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই কাজ করে যাচ্ছে। রাফাত আহমেদ এর লক্ষ্য শুধু একটি সমস্যা সমাধান করা নয়, বরং তরুণদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া, যেখানে তারা নিজেদের শক্তি ও সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে পারবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণদের দক্ষতা বিকাশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন একসঙ্গে কাজ করলে তারা শুধু নিজেদের নয়, বরং সমাজের জন্যও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
রাফাত আহমেদের যাত্রা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং ক্লাবের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে রাফাত বুঝতে পেরেছিলেন, তরুণদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তার অভাব রয়েছে । এই অভিজ্ঞতা তাকে প্ল্যান বি প্রতিষ্ঠার জন্য অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী তরুণদের নতুন সুযোগ ও সমাধানের পথ দেখাবে, নিত্যনতুন চ্যালেন্জ গুলোকে সমাধান করবে।” রাফাতের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তরুণদের জীবন পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন এবং কাজের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। প্ল্যান বি প্রায় দেশের ২৬ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রিপ্রেজেনটেটিভ নিয়ে শুরু করেছে ফার্স্ট এইড মেন্টাল হেল্থ ইন্টার্নিশিপ। এছাড়া প্ল্যান বি কাজ করছে নারীদের স্বাস্থ্য নিয়েও।
প্ল্যান বি তাঁদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে তাঁদের প্রাথমিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্ল্যান বি নিয়ে রাফাত আহমেদ বলেন ” প্ল্যান বি কেবল একটি ফাউন্ডেশন নয়; এটি একটি আন্দোলন। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা তরুণদের প্রতিকূলতা জয় করে নতুনভাবে শুরু করার সাহস এবং সুযোগ দেয়।
প্ল্যান বি তরুণদের পাশে দাঁড়ায়, তাদের গল্প শোনে, এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে স্বপ্ন গড়ে। রাফাত আহমেদ এবং তার টিমের নেতৃত্বে প্ল্যান বি প্রতিদিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। “
