আজ- রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসআই এর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালো আরএমপি  

by Prokash Kal
১৭ views

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে আরএমপি জানায়, রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শাহীন কবির নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বোয়ালিয়া থানার এসআই রাজু মিয়া কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে মারধর করেন এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। এছাড়া তিনি জেলহাজতে থাকার সময় তার প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

আরএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। শাহীন কবির তার স্ত্রী-সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ওই ছাত্রীর অজান্তে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। পরে ওই ছাত্রী তার বৈবাহিক পরিচয় জানতে পেরে সম্পর্ক থেকে সরে যেতে চাইলে শাহীন কবির ধারণ করা ভিডিও পাঠিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি সেগুলো মুছে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি ভিডিও ও অশ্লীল ছবি নিজের টিকটক আইডিতে প্রকাশ করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বোয়ালিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই রাজু মিয়া আইনানুগভাবে শাহীন কবিরকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মামলার আলামত জব্দ করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়া যাওয়ায় সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

আরএমপি আরও জানায়, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাহীন কবিরের ব্যক্তিগত গাড়িটি তার ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) লিপিবদ্ধ রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, মামলার তদন্ত, আলামত জব্দ, আসামি গ্রেপ্তারসহ সব কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ পর্যালোচনায় এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি বা ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাতের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আরএমপি মনে করে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: