
সাহিদ হাসান:
কখনো হঠাৎ করেই গাড়ি থেকে নেমে কনস্টেবলের সঙ্গে হাত মেলান, কখনো আবার নিরবে খোঁজ নেন মাঠপর্যায়ের কোনো সদস্যের পারিবারিক সমস্যার। পদমর্যাদার গণ্ডি পেরিয়ে এমন মানবিক আচরণই রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহানকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি যেন বদলে দিয়েছেন একটি চিরচেনা কাঠামো। যেখানে আগে তদবির, প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল, সেখানে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে মেধা, যোগ্যতা আর পেশাদারিত্ব। বিশেষ করে ওসি নিয়োগে তার কঠোর অবস্থান ‘যোগ্যতাই একমাত্র মানদণ্ড’ মাঠপর্যায়ে নতুন এক আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।
এই পরিবর্তন সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বরং তার এই স্বচ্ছতা ও কঠোরতা কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য হয়ে উঠেছে অস্বস্তির কারণ। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত সেই চক্র এখন নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার চালিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
তবে এসব অপপ্রচার যেন তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি। বরং আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের পথে সততা ও নীতির পথে।
রাজশাহী রেঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিআইজি শাহজাহান শুধু একজন প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি অনেকটা অভিভাবকের মতো। অধস্তনদের প্রতি তার আচরণে নেই কোনো দূরত্ব; বরং আছে আন্তরিকতা ও সম্মান। ফলে বাহিনীর ভেতরে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও কাজের প্রতি নতুন উদ্দীপনা।
সাধারণ মানুষের কাছেও তার পরিচিতি একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টিকেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন।
তার কর্মজীবনের পথচলাও কম চড়াই-উতরাইয়ের নয়। নোয়াখালীর সন্তান শাহজাহান কর্মজীবন শুরু করেন ফরিদপুরে এএসপি (প্রবেশনার) হিসেবে। পরে রাজধানীর রমনা জোনে এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষতার সঙ্গে। কিন্তু দীর্ঘ সময় (প্রায় ১৭ বছর) তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন থেকে বঞ্চিত থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার ঝুলিতে।
এই দীর্ঘ সময়টাকে তিনি থেমে থাকার সময় বানাননি। বরং অধ্যাপনা, গবেষণা ও লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাই আজ তার নেতৃত্বে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে রাজশাহী রেঞ্জে তার নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা অনেকেই দেখছেন আশার আলো হিসেবে। সচেতন নাগরিকদের মতে, এমন সৎ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের হাত ধরেই শক্তিশালী ও জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে ওঠা সম্ভব।
