
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের ঘোলাহার গ্রামের একটি পুকুরে মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুকুর মালিক ও প্রতিপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুকুর মালিক আজাদের দাবি, পারিবারিক শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তার লিজ নেওয়া ৯৮ শতাংশের ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে তার পুকুরে থাকা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মণ পাঙ্গাসসহ অন্যান্য কয়েকশো মণ বিভিন্ন প্রজাতির পরিমাণ মাছ মারা গেছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পুকুরের চারপাশের ধানের জমি থেকে বৃষ্টির পানি সরাসরি পুকুরে এসে মিশছে। এছাড়া পুকুরের ঠিক মাঝখানে এখনো মাছ জীবিত অবস্থায় ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে, যা সাধারণত বিষপ্রয়োগের ঘটনায় দেখা যায় না বলে জানান মৎস্য চাষিরা। পুকুর মালিকের ৫০০-৬০০ মণ মাছের দাবিকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকার অভিজ্ঞ মৎস্যচাষীদের মতে, ৯৮ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মাছের মজুদ এবং আবহাওয়াজনিত কারণে পুকুরে অক্সিজেন স্বল্পতা তৈরি হওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। ভাইরাস ও মাছের খাবারে সমস্যা থাকলেও এমনটা হতে পারে।
এদিকে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। অভিযুক্ত সোহেল রেজা জানান, মাঠে কাজ করার পরে আমি বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি আমি নাকি তাদের পুকুরে বিষ দিয়েছি। তারা আমাদের ফাঁসানোর জন্য খুব চেষ্টা করতেছে। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাবো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।
পুকুরের মালিক পক্ষরা জানান, পুকুরের এক কোণে সোহেল নামের একটি ছেলেকে বসে থাকতে দেখেছেন। তাদের বিশ্বাস, যদি বিষপ্রয়োগের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এই সোহেলই তা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুজিনা পারভিন জানান, এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ জানায়নি। তবে বৈরী আবহাওয়ার ও অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেওয়ার কারণেও এমনটা হয়ে থাকে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব।
একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার এই চেষ্টায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। ঘটনার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
