আজ- বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়ালিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে আরএমপি কমিশনার বরাবর একাধিক অভিযোগ

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, হয়রানি, মনগড়া এজাহার তৈরির অভিযোগসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে একাধিক ভুক্তভোগী রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ভদ্রা সেরিকালচার মসজিদ এলাকায় গত ১ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন ব্যক্তি একটি ভাঙারির দোকানে ঢুকে মারধর, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিশা খাতুন থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি ওসির নির্দেশনা অনুযায়ী এজাহার না লিখলে মামলা গ্রহণ করা হবে না বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে তিনি আরএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম শরীফ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে, তিনি ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থান করেন, পরবর্তীতে আহত বাবা-মা ও বোনকে দেখতে রাজশাহীতে আসেন। এরপর প্রতিপক্ষের দায়ের করা পাল্টা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

অন্যদিকে, নগরীর শিরোইল টার্মিনাল এলাকায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ড্রাইভার মিজানকে আসামি করা হলেও যুবদল নেতা নিজামকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার বাদী থানায় উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তি তার মামলার আসামি নন বলে জানালেও তাকে বিস্ফোরক মামলায় চালান দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মহানগর যুবদল ওসি রবিউল ইসলামের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও আরএমপি কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

এছাড়া গত ১০ মে নারী উদ্যোক্তা মাফরোজা বেগম অভিযোগ করেন, তাকে মারধর, দোকান ভাঙচুর ও টাকা লুটের ঘটনায় মামলা করতে গেলে থানায় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মামলা গ্রহণ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে আরএমপি কমিশনার ও আইজিপি সেল বরাবরও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, থানায় মামলা করতে গেলে প্রকৃত ঘটনা এজাহারে উল্লেখ না করে ওসি নিজের মতো করে অভিযোগপত্র সাজিয়ে দেন। তার নির্দেশনার বাইরে লিখলে মামলা নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

এছাড়া থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, চা বানিয়ে খাওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসি রবিউল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই বোয়ালিয়া থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এমন কর্মকাণ্ড পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

এদিকে, একের পর এক অভিযোগ ওঠার পরও ওসির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তার প্রত্যাহার এবং বোয়ালিয়া থানায় দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার নিয়োগ দাবি।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: